বাসস
  ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৩:৪৫

লেবার পার্টির নেতা ও পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি অভিজ্ঞ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে দলের নতুন নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করবে। এর মধ্য দিয়ে তার দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ নিশ্চিত হবে। শুক্রবার বিশেষ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির পার্লামেন্টে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় ৫৬ বছর বয়সী বার্নহ্যাম সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। 

নয় বছরের বিরতির পর মাত্র চার সপ্তাহ আগে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবারও এমপি নির্বাচিত হন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বার্নহ্যাম এক দশকের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। 

দল রাজনৈতিক সংকটে পড়লে নিজেদের নেতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার প্রবণতা ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে।

টানা তিনবার গ্রেটার ম্যানচেস্টারে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় 'কিং অব দ্য নর্থ' নামে পরিচিত পান বার্নহ্যাম। তবে লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে তিনি কখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। 

২০১০ ও ২০১৫ সালে লেবার পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার তৃতীয় প্রচেষ্টায় দলটির নেতা হচ্ছেন তিনি। এর আগে তিনি এড মিলিব্যান্ড ও জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন।

২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এমপি এবং সাবেক মন্ত্রী বার্নহ্যাম নিজেকে পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ভিডিওর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয়তা পান।

লেবার পার্টির এমপিরা আশা করছেন, তিনি স্টারমারের তুলনায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও ভালোভাবে যোগাযোগ করতে পারবেন এবং ব্রিটেনের দুর্বল হয়ে পড়া সরকারি সেবা খাতের সংস্কার ও অর্থনীতিকে গতিশীল করতে আরও পরিবর্তনমূলক পদক্ষেপ নেবেন।

সাবেক ফুটবলার বুধবার গ্যারি লিনেকারের একটি পডকাস্টে বার্নহ্যাম বলেন, ‘মানুষকে নতুন উদ্দীপনা দিতে হবে। তাদের মধ্যে আরও দৃঢ় আশা জাগাতে হবে এবং এই বিশ্বাস তৈরি করতে হবে যে দেশ আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।’

২০২৯ সালে অনুষ্ঠেয় আগামী সাধারণ নির্বাচনের জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা নাইজেল ফারাজের অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকেকে মোকাবিলায় বার্নহ্যামই সবচেয়ে উপযুক্ত নেতা বলে মনে করছে লেবার পার্টি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে কিয়ার স্টারমার কনজারভেটিভ পার্টিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনেন। ওই সময়ে কনজারভেটিভরা পাঁচ বছরে চারজন নেতা পরিবর্তন করেছিল।

তবে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব দ্রুতই অভ্যন্তরীণ নীতিগত ভুল ও বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের সাবেক সহযোগী পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও ছিল অন্যতম। 

মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর স্টারমারের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। গত ১৮ জুন বার্নহ্যাম পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে জয় পাওয়ার পর সেই চাপ সামলানো তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে। তবে এটি দলীয় নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ খুলে দেয়।

এরপর লেবার পার্টির অধিকাংশ এমপি স্টারমারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। গত ২২ জুন তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

একই দিন এমপি হিসেবে শপথ নেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এসময় তাকে অভিনন্দন জানান সময় লেবার পার্টির কয়েক ডজন আইনপ্রণেতা। এটিকে দলের নেতৃত্ব বার্নহ্যামের হাতে তুলে দেওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।