শিরোনাম

ঢাকা, ৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম আন্তর্জাতিক অস্থিরতাকে উপেক্ষা করে কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যায় মনোযোগ দিতে পারবেন না।
লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, ২২ জুন পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর শনিবার প্রকাশিত প্রথম সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নতুন নেতাকে বৈশ্বিক অস্থিরতার বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
এ পর্যন্ত মধ্য-বামপন্থী দলটির নেতৃত্বের জন্য সাবেক ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামই একমাত্র প্রার্থী। চলতি জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব নিতে পারেন।
স্টারমার বিবিসিকে বলেন, ‘যেই আমার উত্তরসূরি হোন না কেন, তাকেও একই বৈশ্বিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা বারবার বলছি এবং সেটি সত্য, সম্ভবত আমরা এখন আমার জীবদ্দশার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও অস্থির বিশ্বে বাস করছি। এটি কেবল একটি বাক্য নয়, এটাই বাস্তবতা।’
বার্নহ্যামের সমর্থকদের দাবি, তার সরকারের প্রধান গুরুত্ব দেওয়া উচিত জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে। এ সপ্তাহে বার্নহ্যামও বলেছেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ তার অন্যতম অগ্রাধিকার হবে।
তবে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেন এবং জানান, ইউক্রেনের প্রতি স্টারমারের মতোই তিনি ‘শতভাগ’ সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।
বিবিসির প্রশ্নের জবাবে স্টারমার বলেন, তার উত্তরসূরির পক্ষে কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে কম সময় দেওয়া সম্ভব হবে না।
তিনি বলেন, ‘প্রায়ই একটি প্রশ্ন ওঠে, আন্তর্জাতিক বিষয় এবং অভ্যন্তরীণ বিষয় সামলানোর মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কী? কিন্তু বাস্তবে এ দুটি একই বিষয়।’
স্টারমার আরও বলেন, ‘আপনি যদি প্রধানমন্ত্রী হন এবং দেশের প্রতিটি পরিবারের বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন বিল নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তাহলে ইউক্রেন পরিস্থিতির একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করার বিষয়েও আপনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একইভাবে আপনাকে হরমুজ প্রণালীতে কী ঘটছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’
স্টারমার বলেন, বার্নহ্যামের প্রতি তার ‘কখনোই ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ছিল না’ এবং পরবর্তী সরকার সফল হওয়ার জন্য তিনি ‘সম্ভব সবকিছুই করবেন’।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় ধরনের বিজয় এনে দেওয়া স্টারমার জানান, অন্তত পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে উত্তরসূরিকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে বিরক্ত করবেন না।
তিনি বলেন, ‘আমি বরং মুখ বন্ধ রাখব, উত্তরসূরিকে কী করা উচিত সে বিষয়ে প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাব না।’
নেতৃত্ব ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেও শেষ পর্যন্ত দলের প্রবল চাপের মুখে সরে দাঁড়ান স্টারমার।
তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এটি একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছিল।’
স্টারমার জানান, স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি অবকাশযাপন কেন্দ্র চেকার্সে দুই দিন কাটানোর পরই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা চেকার্সে গিয়েছিলাম এবং পরিবার হিসেবে সেখানে দুই দিন একসঙ্গে কাটিয়েছি। সেখানেই আমি আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাই।’