বাসস
  ২৪ জুন ২০২৬, ২০:১৪

ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর আলোচনার প্রস্তুতিতে ওমানে কাতারের প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ পরিচালনা ও নৌ-চলাচল নিয়ে ইরান, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইরাকের মধ্যে আলোচনার সূচনা করতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি বুধবার ওমান সফর করেছেন।

দুবাই থেকে এএফপি আলোচনা-সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিকের বরাতে জানায়, ‘হরমুজ প্রণালীর পরিচালনা নিয়ে ইরান, উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইরাকের মধ্যে আলোচনার প্রস্তুতির জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রী মাসকাটে গেছেন।’

তিনি বলেন, এ আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চলমান আলোচনার বাইরে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

একই সঙ্গে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সৌদি আরবে আরেকটি শীর্ষ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে অঞ্চলের অন্যান্য দেশও অংশ নিতে পারে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর ইরান এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করে দেয়।

তবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান অবরোধ প্রত্যাহার করেছে। ওই চুক্তির মাধ্যমে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয় এবং যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর করা হয়।

১৪ দফা সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর দুই তীরবর্তী দেশ ইরান ও ওমানকে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রণালীটির ‘ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবা’ নির্ধারণ করতে হবে।

ওই কূটনীতিক বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো প্রণালীতে অবাধ নৌ-চলাচল এবং যাতায়াতের ওপর কোনো ধরনের ফি আরোপ না করার পক্ষে অবস্থান নেবে। অন্যদিকে ইরান পরিবেশগত ও নিরাপত্তা সেবা বাবদ একটি ফি আরোপের প্রস্তাব দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় কাতারের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনকারী পাকিস্তানও হরমুজ-সংক্রান্ত আঞ্চলিক আলোচনায় অংশ নিতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটটিউটের   মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ এইচ এ হেলিয়ার বলেন, সম্ভাব্য মীমাংসা আলোচনা উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর ইরান-সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত নয়; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভবিষ্যতে কী ধরনের ভূমিকা প্রত্যাশা করা যায়, সে বিষয়ে তাদের পুনর্মূল্যায়নের প্রতিফলন।

তার মতে, ওয়াশিংটনের অনির্ভরযোগ্যতা এবং ইসরাইলের আঞ্চলিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে ‘পরিচালনাযোগ্য সহাবস্থানের’ পথ খুঁজছে।

মঙ্গলবার ইরান ও ওমান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালীর প্রশাসনিক ও সামুদ্রিক সেবা বাবদ কী পরিমাণ অর্থ আদায় করা হবে, তা নিয়ে তারা যৌথভাবে পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে তারা প্রণালির নিজ নিজ আঞ্চলিক জলসীমার ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও পুনর্ব্যক্ত করে।

ওমানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বুধবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাঈদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরান-সংক্রান্ত আলোচনা ও সাম্প্রতিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় হয়।