শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে ইউরোপের দেশগুলোকে তাদের স্বাস্থ্যসেবাব্যবস্থাকে জলবায়ু-সহিষ্ণু করে তুলতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে বুধবার সতর্ক করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদ্রোাস আধানোম গেব্রেইয়েসুস।
কের্ডভাঙা তাপপ্রবাহের মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। প্রচণ্ড গরম মোকাবিলার জন্য মহাদেশটির অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, তেদ্রোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘ইউরোপের তাপপ্রবাহ স্কুল বন্ধ করে দিচ্ছে এবং মানুষের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।’
তিনি বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, ইউরোপে তাপমাত্রা বৈশ্বিক গড় বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে চরম তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা ও তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর দেরি করার সুযোগ নেই। নেতাদের অবশ্যই জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণগুলো মোকাবিলা এবং জলবায়ু কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে।’
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যার মতো চরম আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও ঘনঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে।
এ সপ্তাহে প্রকাশিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান তাপপ্রবাহ মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উল্লেখযোগ্যভাবে তীব্র হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে বর্তমান তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম হতে পারত।
ডব্লিউএইচও জনগণকে ‘হিট এক্সসশন’ (অতিরিক্ত গরমে শারীরিক অবসাদ) এবং ‘হিটস্ট্রোক’-এর মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, হিট এক্সসশনের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমিভাব ও পেশিতে খিঁচুনি। অন্যদিকে হিটস্ট্রোক একটি প্রাণঘাতী জরুরি অবস্থা, যার লক্ষণ হলো বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে পড়া এবং খিঁচুনি।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটি জানিয়েছে, তীব্র তাপপ্রবাহে আকস্মিক মৃত্যুহার অনেক বেড়ে যেতে পারে। ২০০৩ সালে জুন থেকে আগস্টের তাপপ্রবাহে ইউরোপে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
ডব্লিউএইচওর পরামর্শ অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলেই কেবল বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করা উচিত। এর বেশি তাপমাত্রায় পাখা শরীরকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।
এছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) ব্যবহার করলে তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নির্ধারণ করে তার সঙ্গে পাখা চালালে ঘরকে প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি শীতল অনুভূত হতে পারে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, প্রচণ্ড গরমের সময় নিয়মিত পানি পান করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।