শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ জলবায়ুবিষয়ক কিছু বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)’র চেয়ারম্যান জিম স্কিয়া। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ইউরোপকে ভবিষ্যতে আরও বেশি চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।
প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্কিয়া বলেন, চলতি সপ্তাহে ইউরোপে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা আইপিসিসি দীর্ঘদিন ধরে যে সম্ভাব্য চরম অবস্থার পূর্বাভাস দিয়ে আসছিল, তার ‘সীমার কাছাকাছি’ অবস্থান করছে।
তবে তিনি জানান, আঞ্চলিক পর্যায়ে এবং সমুদ্রসংক্রান্ত কিছু প্রভাব প্রত্যাশার চেয়েও বেশি তীব্র হয়েছে।
স্কিয়ার ভাষায়, ‘কিছু বিষয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আমাদের অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে পূর্বাভাসের সীমার বাইরেও চলে গেছে।’
মঙ্গলবার ফ্রান্সে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটেন থেকে হাঙ্গেরি পর্যন্ত ইউরোপের কয়েকটি দেশ উচ্চমাত্রার তাপ সতর্কতা জারি করেছে।
এএফপির হিসাব অনুযায়ী, বুধবার ইউরোপে অন্তত ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হবে। এদের বেশিরভাগই ফ্রান্স ও স্পেনের বাসিন্দা।
স্কিয়া বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আমরা যা দেখেছি, ভবিষ্যতে অনিবার্যভাবেই তার আরও বেশি অভিজ্ঞতা হবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনগুলোর তাপমাত্রা গড় তাপমাত্রার তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ে। এসব ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ বেশি হতে পারে।
তার মতে, যদি বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তাহলে বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিনের তাপমাত্রা ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
আইপিসিসি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জলবায়ুবিষয়ক গবেষণা মূল্যায়ন করে এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য প্রতি পাঁচ থেকে সাত বছর অন্তর বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংস্থাটির পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন ২০২৮ বা ২০২৯ সালে প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।