শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ইউরোপজুড়ে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ চলছে। সোমবার ফ্রান্সে একটি গাড়ির ভেতর দুই শিশুর লাশ পাওয়া গেছে।
নিহত ওই দুই শিশুর একজনের বয়স দুই বছর ও অন্য জনের বয়স চার বছর। দক্ষিণ ফ্রান্সের কার্পেন্ত্রাস শহরের একটি আবাসিক পার্কিং এলাকায় পারিবারিক গাড়ির ভেতর তাদের পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তাপপ্রবাহের প্রভাব কমাতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, প্রবল তাপপ্রবাহই তাদের মৃত্যুর সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
জরুরি সেবা বিভাগ এএফপিকে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে একটি ফোন কল পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা শিশুদের হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া অবস্থায় পায়।
ঘটনার সময় তাদের মাকেও চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এখনো তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইউরোপে চলমান এই তাপপ্রবাহের কারণে বাইরের অনুষ্ঠান বাতিল, পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত, স্কুল বন্ধ ও কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বারবার এই ধরনের তাপপ্রবাহ জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ এবং ভবিষ্যতে এগুলো আরও ঘন ঘন দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হতে পারে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা মেটিও জানিয়েছে, জুন মাসে দেশটির গড় তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রবল গরমের কারণে ১,৩৫০টিরও বেশি স্কুল বন্ধ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দিনে ও রাতে গড় তাপমাত্রা ২৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ২০২৫ সালের ৩০ জুনের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
তাপপ্রবাহের কারণে ফ্রান্সের অর্ধেকেরও বেশি এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ফলে ৩ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর মঙ্গলবার একটি জরুরি বৈঠক করার কথা রয়েছে বলে তার এক সহকারী জানিয়েছেন।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে সোমবার তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। নগর কর্তৃপক্ষ গৃহহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের জন্য একটি ‘জলবায়ু আশ্রয়কেন্দ্র’ স্থাপন করেছে। এটি দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং এখানে পানি, খাবার ও স্বাস্থ্য সেবা সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
দক্ষিণ স্পেনের কর্ডোবা শহরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা দেখা গেছে, অনেকেই ছাতা ব্যবহার করে বা আইসক্রিম খেয়ে গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন।
জার্মানিতে সপ্তাহান্তে সাঁতার কাটতে গিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া ক্যামিলো স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল টেলেমাদ্রিদকে বলেন, অত্যন্ত কষ্টকর, খুবই কষ্টকর। যারা রাস্তায় থাকতে অভ্যস্ত নয়, তাদের জন্য গোসল ছাড়া, খাবার ছাড়া থাকাটা একটু কঠিন। আর বাইরের গরমটা খুব তীব্র।’