শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ জুন, ২০২৬ (বাসস): পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জ্বালানি নীতি, অভিবাসন ইস্যু ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনায় স্টারমার নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি যে তিনি একজন চমৎকার মানুষ।’
তবে এর পরই তিনি স্টারমারের জ্বালানি নীতির সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, উত্তর সাগরের তেলসম্পদ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে ব্রিটেন ও দেশজুড়ে ‘উইন্ডমিল’ স্থাপনে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাজ্য তাদের জ্বালানির বড় অংশ জানেন কিনে কোথা থেকে? নরওয়ে থেকে। তারা তেল পায় কোথা থেকে? উত্তর সাগর থেকে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের অংশ আরও বড়। কিন্তু পরিবেশগত কারণ দেখিয়ে তারা তা ব্যবহার করতে চায় না।’
এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে স্টারমারের বিদায়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, স্টারমার ‘এক অর্থে আমার বন্ধু’ হলেও ন্যাটো ও ইরান যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে যথেষ্ট সমর্থন দেননি।
সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালানোর বিষয়েও দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ ছিল।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য সাইপ্রাসের আরএএফ অ্যাক্রোটিরি ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে ব্রিটেন অনেক দেরি করেছে, যা তাকে হতাশ করেছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন আমরা দ্বীপটি ব্যবহার করে অবতরণ করতে পারব না। এমন ঘটনা আগে ঘটেনি।’
তিনি আরও বলেন, পরে স্টারমার অনুমতি দিলেও ‘এটি ছিল খারাপ সিদ্ধান্ত’ এবং ‘এতে তিনি বড় ধরণের রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’
স্টারমারকে শুভকামনা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘তার সামনে দুটি সমস্যা রয়েছে জ্বালানি ও অভিবাসন। তাছাড়া অপরাধও আছে। তবে জ্বালানি ও অভিবাসনই মূল বিষয়। এসব ইস্যুতে তিনি নিজেকে খুবই খারাপভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।’
সোমবার স্টারমার ঘোষণা দেন, তিনি লেবার পার্টির নেতা পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। তবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।