শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ মে, ২০২৬ (বাসস) : রোমানিয়ায় বিধ্বস্ত হওয়া ড্রোনটি রাশিয়ার ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এ মন্তব্য করেছেন। ঘটনাটির জেরে ইউরোপজুড়ে সৃষ্ট ক্ষোভের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করলেন।
রোমানিয়ার কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোরের মধ্যে কোনো এক সময়ে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলে আগুন লেগে যায় এবং দুই ব্যক্তি আহত হয়।
বুখারেস্টেও দাবি, ড্রোনটি রাশিয়ার। এ ঘটনায় ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোও নিন্দা জানিয়েছে।
আস্তানা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
কাজাখস্তানের রাজধানী আস্তানায় এ এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘এখানে ঢোকার ঠিক আগ মুহুর্তে আমি জানতে পারলাম, রুশ মালিকাধীন বলে ধারণা করা একটি ড্রোনকে ঘিরে বিতর্ক চলছে।’
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত আকাশযানটি কোথা থেকে এসেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
পুতিন বলেন, ‘তারা যদি আমাদেও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য-প্রমাণ দেয়, তাহলে কী ঘটেছে তা যাচাই করে দেখব।’
রোমানিয়া ও দেশটির ন্যাটো মিত্রদের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া কখনোই ইউরোপীয় দেশগুলোকে হুমকি দেয়নি।’
পুতিনের দাবি, ইউরোপীয় দেশগুলো ‘রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রাখতে এবং নিজেদের রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে অতিরিক্ত ব্যয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে’ এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
রুশ দূতাবাস টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, রোমানিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। তাকে জানানো হয়েছে, কনস্টান্টা শহরের রুশ কনসাল জেনারেলকে বহিষ্কার করা হবে এবং কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এদিকে রুশ দূতাবাসের অভিযোগ, ‘রোমানিয়ার বিশেষজ্ঞরা কীভাবে ড্রোনটির জাতীয়তা নির্ধারণ করলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।’
একই সঙ্গে তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে ‘নতুন উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগ তোলে। রুশ দূতাবাসের দাবি, এর লক্ষ্য ‘যেকোনো উপায়ে ন্যাটোকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানো।’
২০২২ সালে ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর থেকে রোমানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা একাধিকবার শনাক্ত হয়েছে। তবে শুক্রবারের হামলায় প্রথম দেশটির কোনো আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ঘটনা ঘটে।