শিরোনাম

ঢাকা, ১৬ মে, ২০২৬ (বাসস) : ইসরাইল শুক্রবার দাবি করেছে, গাজায় ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের সশস্ত্র শাখার প্রধান ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর থেকে গাজা ও আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংগঠনটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে আসছে ইসরাইলি সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আইডিএফ গাজায় হামাসের সামরিক শাখার কমান্ডার এবং ৭ অক্টোবরের গণহত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ইজ্জেদিন আল-হাদ্দাদকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।’
তবে ওই হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
অন্যদিকে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা জানিয়েছে, গাজা সিটির আল-রামাল এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
ইসরাইলি টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে গাজার একটি ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। ভবনটিকে হাদ্দাদের অবস্থানস্থল বলে দাবি করা হয়েছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, আল-হাদ্দাদ ইসরাইলি নাগরিক ও সেনাদের বিরুদ্ধে বহু হত্যাকা-, অপহরণ ও হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গাজায় আটক ইসরাইলি জিম্মিদের কঠোরভাবে বন্দি করে রাখার জন্যও তাকে দায়ী করা হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সশস্ত্র শাখা ইসরাইলে বড় ধরনের হামলা চালায়। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১ হাজার ২২১ জন নিহত হন। এছাড়া ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর থেকে গাজায় ইসরাইলের পাল্টা সামরিক অভিযানে ৭২ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
হামাস-নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত এ সংস্থার তথ্যকে তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে জাতিসংঘ।
যুদ্ধ চলাকালে হামাসের একাধিক শীর্ষ নেতা হত্যার দাবি করেছে ইসরাইল। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াহিয়া সিনওয়ার, যাকে ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এছাড়া হামাসের সশস্ত্র শাখার দীর্ঘদিনের কমান্ডার এবং হামলার আরেক পরিকল্পনাকারী মোহাম্মদ দেইফও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইল।
ইসরাইলি হামলা শুধু গাজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। লেবাননে থাকা হামাস-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সদস্যদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পাশাপাশি হামাসের মিত্র লেবাননের শীর্ষ কমান্ডারদের বিরুদ্ধেও হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের মধ্যে সাবেক হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহও রয়েছেন।