বাসস
  ১০ মে ২০২৬, ১৩:৩১

কঙ্গোতে মিলিশিয়া হামলায় নিহত ৬৯

ঢাকা, ১০ মে ২০২৬ (বাসস) : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে মিলিশিয়া হামলায় অন্তত ৬৯ জন নিহত হয়েছেন। 

শনিবার স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় কঙ্গোতে তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। খনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এসব গোষ্ঠী লড়াই চালিয়ে আসছে।

বুনিয়া থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ইতুরি প্রদেশে হেমা ও লেন্দু—এই দুই জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সহিংস সংঘাত চলছে। স্বর্ণখনিসমৃদ্ধ প্রদেশটি উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত।

স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্র জানায়, লেন্দুদের রক্ষার দাবি কর কোঅপারেটিভ ফর দ্য ডেভেলপমেন্ট অব কঙ্গো (কোডেকো) মিলিশিয়া সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র ব্যক্তিরা ২৮ এপ্রিল একাধিক গ্রামে হামলা চালায়। এতে অন্তত ৬৯ জন নিহত হন।

এর আগে আরেক সশস্ত্র গোষ্ঠী কনভেনশন ফর দ্য পপুলার রেভলিউশন (সিআরপি) কঙ্গো সেনাবাহিনীর (এফএআরডিসি) অবস্থানে হামলা চালায় বলে জানানো হয়। গোষ্ঠীটি হেমা সম্প্রদায়ের পক্ষে কাজ করার দাবি করে আসছে। হামলাটি পিম্বো এলাকার কাছে ঘটে।

নাগরিক সমাজের নেতা দিয়ুদোনে লোসা এএফপিকে বলেন, এপ্রিলের শেষ দিকে কোডেকো যোদ্ধাদের পাল্টা হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও দুটি নিরাপত্তা সূত্রও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের একজন জানান, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৬৯। এর মধ্যে ১৯ জন মিলিশিয়া ও সেনাসদস্যও রয়েছে।

কোডেকো যোদ্ধাদের উপস্থিতির কারণে কয়েকদিন ধরে মরদেহ উদ্ধার বিলম্বিত হয় বলে তারা জানান।

লোসা শনিবার বলেন, কোডেকো সদস্যদের উপস্থিতির কারণে কয়েক দিন ধরে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত মাত্র ২৫টি মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

একজন মানবিক সহায়তা কর্মী জানিয়েছেন, বাছা গ্রামের আশপাশে বহু মরদেহ খোলা মাঠে পড়ে ছিল। ওই এলাকাটিও হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

-পাল্টা হামলা এড়ানোর আহ্বান-

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন (মোনুসকো) ৩০ এপ্রিল জানায়, সিআরপি হামলার সময় গোলাগুলির মধ্যে আটকা পড়া অন্তত ২শ’ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার তারা এক বিবৃতিতে পূর্বাঞ্চলে বেসামরিকদের লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মোনুসকো।

হেমা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী অলাভজনক সংগঠন ‘এনতে’ এ হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে সদস্যদের প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

কোবাল্ট, তামা, ইউরেনিয়াম ও হীরাসহ বিপুল খনিজ সম্পদের জন্য পরিচিত সাবেক বেলজিয়ান উপনিবেশটি দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় জর্জরিত।

২০২৫ সাল থেকে ইতুরিতে সিআরপি গোষ্ঠীর তৎপরতা আবারও বেড়েছে। গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেন দণ্ডপ্রাপ্ত কঙ্গোলিজ যুদ্ধাপরাধী থমাস লুবাঙ্গা।

শিশুদের জোরপূর্বক সেনাদলে নিয়োগের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০১২ সালে লুবাঙ্গাকে দোষী সাব্যস্ত করে। সাজা শেষে ২০২০ সালে তিনি মুক্তি পান। 

সিআরপি, কঙ্গো সেনাবাহিনী ও কোডেকো মিলিশিয়ার মধ্যে চলমান সংঘাতে ব্যাপক নির্যাতন ও বেসামরিক হত্যার ঘটনা ঘটছে।

এছাড়া উগান্ডাভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী এলাইড ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এডিএফ) হামলাও অব্যাহত রয়েছে। তারা ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, প্রদেশটির প্রায় ১০ লাখ অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষ তীব্র মানবিক সংকটে রয়েছে।