শিরোনাম

ঢাকা, ৯ মে, ২০২৬ (বাসস) : পশ্চিম লিবিয়ার জাওইয়া শহরের কর্তৃপক্ষ অপরাধী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি ‘ব্যাপক অভিযান’ শুরু করেছে। শুক্রবার তারা এ কথা জানিয়েছে।
এই শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল ও বড় একটি তেল শোধনাগার রয়েছে।
এই অভিযানের সময় শহরজুড়ে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘সকাল থেকে রাজধানী ত্রিপোলির পশ্চিমে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরের এই শহরজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সামরিক ইউনিট বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি ও গ্রেফতার কার্যক্রম চালিয়েছে।’
কর্তৃপক্ষ জানায়, এই অভিযান ‘হত্যাকাণ্ড ও হত্যাচেষ্টা, অপহরণ ও চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও মানব পাচার এবং অবৈধ অভিবাসনের’ মতো ‘গুরুতর কর্মকাণ্ডে জড়িত’ ‘অপরাধীদের আস্তানা ও পলাতক ব্যক্তিদের’ বিরুদ্ধে চালানো হয়েছে।
যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের আনুষ্ঠানিক তথ্য নিশ্চিত করেনি। জাতিসংঘ লিবিয়া সহায়তা মিশন (ইউএনএসএমআইএল) পরে এক বিবৃতিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ‘বেসামরিক হতাহতের উদ্বেগজনক খবরের’ নিয়ে নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘ মিশন বলেছে, ‘ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী অস্ত্রের ব্যবহার ও নির্বিচার গুলি চালানো গ্রহণযোগ্য নয়।’
তারা আরও বলেছে, ‘বেসামরিক অবকাঠামোকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করা যাবে না। সকল পক্ষকে অবিলম্বে এসব কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হবে।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আবাসিক এলাকা ও শহরের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সের কাছাকাছি সংঘর্ষ চলছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ফোনে এএফপিকে জানান, ‘শুক্রবার ভোরে প্রথম সংঘর্ষ শুরু হয়।’
তিনি শহরজুড়ে ‘বিস্ফোরণের শব্দ’ শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন।
স্থানীয় জরুরি পরিষেবা বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে, বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের সময়, মানুষ মসজিদে যাওয়ার কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায়।
প্রায় আড়াই লাখ জনসংখ্যার এই শহরে বহুবার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তেল অবকাঠামো থাকার পাশাপাশি জাওইয়া শহরটি জ্বালানি ও অন্যান্য চোরাচালানের জন্য তিউনিসিয়ার সীমান্তঘেঁষা একটি কুখ্যাত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর, বছরের পর বছর ধরে চলা অস্থিরতার কারণে উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি এখনও বিভাজন ও অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে জাতিসংঘ-স্বীকৃত সরকার ও প্রতিদ্বন্দ্বী সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার-সমর্থিত পূর্বাঞ্চলের মধ্যে বিভক্ত রয়েছে।