বাসস
  ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:১৪

থাই আদালতে বিরোধীদলীয় নেতা ও এমপিদের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : থাইল্যান্ডের একটি আদালত শুক্রবার প্রধান বিরোধী দলের নেতাসহ ১০ জন সংসদ সদস্যের (এমপি) বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজপরিবার অবমাননা আইন সংস্কারের চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগে এ মামলা হলেও আদালত তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সংসদ সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করেনি। 

ব্যাংকক থেকে এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

নাথাফং রুয়েংপানিয়াওতের নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল পিপলস পার্টি ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। এর আগে দলটির পূর্বসূরি রাজপরিবার অবমাননা সংক্রান্ত কঠোর আইনটি সংশোধনের জন্য একটি খসড়া বিল সংসদে উত্থাপন করেছিল।

জাতীয় দুর্নীতি দমন কমিশন সম্ভাব্য নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

শুক্রবার আদালত জানায়, তারা মামলাটি গ্রহণ করেছে। তবে সাংসদদের তাৎক্ষণিকভাবে সংসদীয় পদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার ক্ষমতা প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির প্যানেলের একজন বলেন, ‘মামলাটি আদালতের বিবেচনার জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব স্থগিতের কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি।

দোষী প্রমাণিত হলে নাথাফংসহ নবনির্বাচিত অন্য নয়জন সাংসদ আজীবন রাজনৈতিক পদে থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন এবং ১০ বছরের জন্য তাদের ভোটাধিকার বাতিল হতে পারে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাজপরিবার অবমাননা আইন সংশোধনের প্রস্তাব করায় বর্তমান ও সাবেক ৪৪ জন প্রগতিশীল এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। বর্তমান অভিযুক্ত ১০ জনও তাদের অন্তর্ভুক্ত।

থাইল্যান্ডে ‘ধারা ১১২’ নামে পরিচিত শতবর্ষ পুরনো এই আইন রাজা ও রাজপরিবারকে সমালোচনা থেকে সুরক্ষা দেয়। এ আইনের অধীনে প্রতিটি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালে থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত পিপলস পার্টির পূর্বসূরি ‘মুভ ফরোয়ার্ড’ দলকে বিলুপ্ত করে দেয়। আদালত রায়ে জানায়, দলটির কার্যক্রমে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র উৎখাতের প্রচেষ্টা ছিল।