বাসস
  ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৬

শিশুদের টিকাদান ‘ক্যাচ-আপ’ কর্মসূচি লক্ষ্য অর্জনের পথে : জাতিসংঘ

ঢাকা, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জাতিসংঘ শুক্রবার জানিয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান থেকে বাদ পড়েছিল, তাদের টিকাদান নিশ্চিত করতে তিন বছর ধরে চলা একটি উদ্যোগ নির্ধারিত ২ কোটি ১০ লাখ শিশুর লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে।

২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ মহামারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে চাপে ফেলে এবং টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত করে। এর ফলে হাম ও পোলিওসহ সংক্রামক রোগের পুনরুত্থান ঘটে।

জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিঊএইচও), ইউনিসেফ এবং ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গাভি এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ‘বিগ ক্যাচ-আপ’ কর্মসূচি ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই টিকাদান কর্মসূচি মার্চে শেষ হয়েছে।

চূড়ান্ত তথ্য এখনো প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা ও এশিয়ার ৩৬টি দেশে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ শিশুকে জীবনরক্ষাকারী টিকার ১০ কোটিরও বেশি ডোজ দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ শিশু আগে কখনোই কোনো টিকার ডোজ পায়নি, এবং প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ শিশু আগে কখনো হাম টিকা গ্রহণ করেনি।

এই শিশুদের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসূচিটি জাতীয় টিকাদান ব্যবস্থাকেও উন্নত করেছে, যাতে বয়সভিত্তিকভাবে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা সহজ হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানোম গেব্রেয়েসুস বলেন, কোভিড-১৯-এর কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় যেসব শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে এই কর্মসূচি মহামারির একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সাহায্য করেছে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি ইতিবাচক নয়।

সংস্থাগুলো বলছে, টিকা নিয়ে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি বাড়ছে। পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়মিত টিকাদানে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ঘাটতি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই বৃদ্ধি আরও তীব্র হয়েছে কিছু এলাকায় টিকার প্রতি আস্থা হ্রাসের কারণে।

ডব্লিঊএইচও’র টিকা বিভাগের প্রধান কেট ও’ব্রায়েন বলেন, টিকা বিষয়ে মানুষের সবচেয়ে বেশি আস্থা থাকে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর, তবে এখন উদ্বেগের বিষয় হলো টিকা ও স্বাস্থ্য নিয়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিকীকরণ।

গাভির প্রধান নির্বাহী সানিয়া নিস্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর একটি বড় বাণিজ্যিক ও অ্যালগরিদম-নির্ভর ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যা মোকাবিলা করা জরুরি।

ইউনিসেফের টিকাদান বিভাগের প্রধান এফ্রেম লেমাঙ্গো বলেন, সামাজিক মাধ্যমের অ্যালগরিদম সাধারণত সঠিক তথ্যের চেয়ে উত্তেজনাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়, ফলে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং স্বাস্থ্য খাতে তহবিল সংকোচন টিকাদান কার্যক্রমের অর্জনকে উল্টে দিতে পারে।