বাসস
  ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৫৭

৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে উ. কোরিয়ার হ্যাকিং গ্রুপ জড়িত

ঢাকা, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির পেছনে উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকিং গ্রুপ জড়িত বলে ধারণা করছে ভুক্তভোগী পক্ষটি। চলতি বছর এটিই এ পর্যন্ত জানা বড় ধরনের ক্রিপ্টো চুরির ঘটনা। 

সিউল থেকে এএফপি এ কথা জানায়।

জাতিসংঘের একটি প্যানেলের মতে, উত্তর কোরিয়ার অত্যাধুনিক সাইবার অপরাধ কর্মসূচির মাধ্যমে সংগৃহীত এই অর্থ দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যয় করা হয়। 

এটি উত্তর কোরিয়া-সংশ্লিষ্ট এ ধরনের সর্বশেষ অপরাধমূলক ঘটনা।

ডিজিটাল কারেন্সি বিষয়ক সংবাদ মাধ্যম কয়েনডেস্ক’ জানিয়েছে, গত শনিবার অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট টুল ‘কেলপডাও’- এর ভল্টে এই চুরির ঘটনাটি ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো লুট।

কেলপডাও মঙ্গলবার জানিয়েছে, হ্যাকিংয়ের সময় ‘লেয়ারজিরো’ নামক অন্য একটি ক্রিপ্টো টেক অ্যাপ্লিকেশনের অধীনে থাকা দুটি ব্লকচেইন সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে প্রধান ডিজিটাল মুদ্রা ইথেরিয়াম-সংশ্লিষ্ট একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি টোকেন কেলপডাও থেকে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়।

লেয়ারজিরো এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘১৮ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে কেলপডাও থেকে প্রায় ২৯০ মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রাথমিক আলামত অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে যে এটি অত্যন্ত সুসংগঠিত একটি রাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীর কাজ, সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার লাজারাস গ্রুপ এর পেছনে জড়িত।’

প্রতিষ্ঠানটি ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছে যে, ‘অন্য কোনো ক্রস-চেইন সম্পদ বা অ্যাপ্লিকেশনের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়েনি।’

ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকার বা ব্যাংকের মতো কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই লেনদেন করা যায়, যাকে বিকেন্দ্রীভূত অর্থ ব্যবস্থা বা ‘ ডি-ফাই’ বলা হয়।

নাইন ব্লকস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের সহ-প্রতিষ্ঠাতা হেনরি আরসলানিয়ান বুধবার এক নোটে বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনা ডি-ফাই জগতে নতুনদের প্রবেশ করতে আরও ভীত করে তুলবে। এটি স্পষ্টতই উত্তর কোরিয়ার লাজারাস গ্রুপের কাজ। বিশ্বজুড়ে অন্য কোনো গ্রুপের এ ধরনের হ্যাকিং করার মতো দক্ষতা ও ক্ষমতা নেই।’

জাতিসংঘের একটি প্যানেল ২০২৪ সালে প্রাক্কলন করেছিল যে ২০১৭ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) ডলারেরও বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে। 

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ডিজিটাল সম্পদ চুরির দায়ে অভিযুক্ত করেছিল, যা ছিল তৎকালীন ইতিহাসের বৃহত্তম ক্রিপ্টো চুরি।