বাসস
  ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:২৮

আফ্রিকা সফরের শেষ পর্যায়ে গিনির কারাগার পরিদর্শনে যাচ্ছেন পোপ

ঢাকা, ২২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : পোপ চতুর্দশ লিও বুধবার ইকুয়েটোরিয়াল গিনির একটি জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর কারাগার পরিদর্শন করবেন। 

এটি হবে তার ম্যারাথন আফ্রিকা সফরের শেষ দিনের আগের দিন। এই সফরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলেছেন। 

তেল সমৃদ্ধ কিন্তু চরম বৈষম্যের দেশ গিনিতে মঙ্গলবার পৌঁছান পোপ। 

এর আগে তিনি আলজেরিয়া, ক্যামেরুন ও অ্যাঙ্গোলা সফর করেন। 

বুধবার তিনি বাটা কারাগারের বন্দীদের সঙ্গে দেখা করবেন। 

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই কারাগারের অতিরিক্ত ভিড়, নিম্নমানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও কয়েদিদের ওপর নির্যাতনের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন।

তিনি বাটার স্টেডিয়ামে পরিবার ও তরুণদের সঙ্গেও দেখা করবেন এবং ২০২১ সালে উপকূলীয় শহরটিকে কাঁপিয়ে দেওয়া এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। 

সে সময় একটি অস্ত্রাগারে আগুন লাগার ফলে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ৬০০ জন আহত হয়েছিলেন।

দেশের বৃহত্তম শহর ও অর্থনৈতিক রাজধানী বাটা ছাড়াও পোপ গ্যাবন সীমান্তের কাছে মঙ্গোমো  সফর করবেন। সেখানে তিনি গণপ্রার্থনায় অংশ নেবেন এবং একটি স্কুল পরিদর্শন করবেন।

মঙ্গলবার সফরের শুরুতেই পোপ ইকুয়েটোরিয়াল গিনিকে ‘আইন ও ন্যায়বিচারের সেবায়’ নিজেকে নিয়োজিত করার আহ্বান জানান। 

নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠা এক একনায়কতান্ত্রিক দেশের জন্য তার এই মন্তব্য ছিল বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ।

তবে, তার আগের সফরগুলোর তুলনায় এবার তার সুর ছিল অনেক বেশি সংযত। 

আগের সফরগুলোতে তিনি বিশ্বজুড়ে লুটপাট চালানো ‘স্বৈরাচারীদের’ তীব্র সমালোচনা করেছিলেন, ধনী ও ক্ষমতাশালীদের ‘শোষণের’ নিন্দা করেছিলেন। এ ছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার পোপ লিওর  আহ্বানের বিরোধিতা করায়, এই প্রথম আমেরিকান পোপ ট্রাম্পের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। 

৭০ বছর বয়সী লিওকে ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। একদিকে তিনি ধর্মপ্রাণদের সমর্থন করবেন, অন্যদিকে তেওডোরো ওবিয়াং এনগুয়েমা এমবাসোগোর সরকারকে সমর্থন করবেন না। 

এমবাসোগো ১৯৭৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন এবং ৮৩ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি কোনো রাজা নন।

স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ঐতিহ্যের কারণে এই ক্ষুদ্র উপকূলীয় দেশের ২০ লাখ মানুষের মধ্যে ৮০ শতাংশই ক্যাথলিক। 

আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের তথ্য মতে, দেশটির অর্থনীতির ৪৬ শতাংশ এবং রপ্তানির ৯০ শতাংশই আসে হাইড্রোকার্বন বা তেল উৎপাদন থেকে।

তবে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর মতে, ‘তেল থেকে আসা বিশাল রাজস্ব প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মুষ্টিমেয় অভিজাত শ্রেণির বিলাসিতার জন্য ব্যয় হয়, অন্যদিকে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে।’

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি পোপ লিওকে স্বাগত জানান। 

পোপ লিও প্রেসিডেন্টের ছেলে ও ভাইস প্রেসিডেন্ট তেওডোরো এনগুয়েমা ওবিয়াং ম্যাঙ্গুর উপস্থিতিতেই পোপ দেশটির ‘নাটকীয়ভাবে’ বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলেন। 

ম্যাঙ্গু ২০১৯ সালে ফ্রান্সে অর্থপাচার ও জনস্বার্থের অর্থ আত্মসাতের দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন। 

পোপ তার ১১ দিনের ১৮ হাজার কিলোমিটারের (১১,২০০ মাইল) এই আফ্রিকা সফর শেষ করবেন বৃহস্পতিবার। 

রাজধানী মালাবোতে একটি খোলা জায়গায় গণপ্রার্থনার মাধ্যমে সফর শেষ করে তিনি রোমে ফিরে যাবেন।