বাসস
  ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪০

মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে: ইরান

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইরানে বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি আর খুলে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। শনিবার এ ঘোষণা দেয় দেশটি।

একই সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি এখনও অনেক দূরে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ‘অগ্রগতি’ হয়েছে, তবে এখনও অনেক মতপার্থক্য আছে এবং কিছু মৌলিক বিষয় অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত আলোচনা থেকে এখনও অনেক দূরে আছি।’ যুদ্ধ অবসানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় তেহরানের পক্ষে অংশ নেওয়া অন্যতম আলোচক এই গালিবাফ।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার উদ্দেশ্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটানো।

চুক্তি নবায়ন করা না হলে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো আলোচনা’ চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার চেষ্টা না করতে তেহরানকে সতর্ক করে দেন তিনি।

শুক্রবার লেবাননে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। 

এতে বৈশ্বিক বাজারে স্বস্তি ফেরে এবং তেলের দাম কমতে শুরু করে। কিন্তু ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, বড় কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরে অবরোধ অব্যাহত থাকবে। এরপরই তেহরান ফের প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।
গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ না তোলে, তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল অবশ্যই সীমিত করা হবে।’

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক লিখিত বার্তায় জানান, দেশটির নৌবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে ‘প্রস্তুত’।

হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের কাছে ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে ‘চালাকি’ বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তার মতে, হরমুজ প্রণালি বিষয়ে ঘনঘন নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে ওয়াশিংটনকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ করার চেষ্টা করছে তেহরান।

ট্রাম্পের দাবি, ‘আমাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে।’
-উত্তেজনা ও সামরিক সতর্কতা-

ইরানের বিপ্লবী গার্ডস হুমকি দিয়ে বলেছে, অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে ‘শত্রুর সহযোগী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য প্রণালি খুলে দেওয়ার সুবাধে শনিবার ভোরে কয়েকটি তেল ও গ্যাস ট্যাংকার পার হতে সক্ষম হয়। তবে পরে অনেক জাহাজ ফিরে যায়। বিকেলের দিকে ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মগুলো জানায়, পরে আর কোনো জাহাজই ওই রুট ব্যবহার করতে পারেনি।

যুক্তরাজ্যের একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, রেভল্যুশনারি গার্ডস একটি ট্যাংকারে গুলি চালিয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, বাহিনীটি উপসাগর থেকে পালিয়ে আসা একটি খালি ক্রুজ জাহাজকে ‘ধ্বংস’ করার হুমকি দিয়েছে। 

তৃতীয় আরেকটি ঘটনায় ওই যুক্তরাজ্যের সংস্থাটি জানায়, একটি জাহাজে ‘অজ্ঞাত উৎস থেকে ছোড়া বস্তুর আঘাতে’ শিপিং কন্টেইনারের ক্ষতি হয়েছে, তবে আগুন লাগেনি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালিতে দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।

-কূটনৈতিক আলোচনা-

মিশর ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কায়রো। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি হতে পারে বলে আশা করছেন।

আলোচনায় দুটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয় হল ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত এবং অন্যটি হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যত।

শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান প্রায় ৪৪০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইরানের সঙ্গে মিলে অনেকগুলো খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) ব্যবহার করে সেগুলো উদ্ধার করব।’
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মজুতটি যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি ‘কোথাও স্থানান্তর করা হবে না’। 

মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের বিষয়টি কখনও আলোচনায় ওঠেইনি।’