শিরোনাম

ঢাকা, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবকে ‘সংবিধানের গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন হিজবুল্লাহর আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ।
বৈরুত থেকে এএফপি জানায়, শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে বৈঠকের ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হলো।
ফাদলাল্লাহ বলেন, এই উদ্যোগ ‘জাতীয় চুক্তি, সংবিধান ও লেবাননের আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন... এবং এটি এমন সময়ে অভ্যন্তরীণ বিভাজন বাড়াবে, যখন ইসরাইলি আগ্রাসনের মুখে লেবাননের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্য ও সংহতি’।
তিনি আরও বলেন, ‘মাঠে যা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে শত্রুপক্ষ, তা এমন একটি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় পাবে না—যাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই, যারা জনগণকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যাদের ওপর ভরসা করা যায় না।’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় জানিয়েছে, শুক্রবার ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে এবং লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একটি ফোনালাপ হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ওই আলোচনায় আগামী মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টে প্রথম বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হওয়া হয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে লেবানন-ইসরাইল আলোচনার শুরুর সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে।’
প্রতিবাদ
গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরাইলের ওপর রকেট হামলা চালিয়ে লেবাননকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট আউন বারবার সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে আসছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়।
এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও, সেটি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না- এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। এদিকে ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং হিজবুল্লাহও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট আউনের ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইয়েখিয়েল লেইটার বলেন, তার দেশ লেবানন সরকারের সঙ্গে ‘আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরুতে সম্মত হয়েছে’, যদিও দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, ‘হিজবুল্লাহ নামক সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে ইসরাইল অস্বীকৃতি জানিয়েছে—যারা এখনও ইসরাইলের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তির প্রধান বাধা।’
লেবাননের এক সরকারি কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এএফপিকে জানান, ইসরাইলের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা শুরুর আগে লেবানন যুদ্ধবিরতি চায়।
শুক্রবার বৈরুতের সরকারি কার্যালয়ের সামনে এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে হিজবুল্লাহ সমর্থকদের বিক্ষোভ হয়। অনেককে দলটির পতাকা এবং ইরানের পতাকা বহন করতে দেখা যায়।