বাসস
  ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫০

নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নেপালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : নেপালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নতুন সরকারের অধীনে উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযানের ধারাবাহিকতায় তিনি সর্বশেষ লক্ষ্যবস্তু।

৭৯ বছর বয়সী দেউবা বর্তমানে চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন এবং তিনি বলেছেন, ‘আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’ তিনি দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কাঠমান্ডু থেকে এএফপি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের সম্পদ নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’

কাঠমান্ডুর আদালত কর্মকর্তারা এএফপিকে জানান, অর্থপাচার তদন্ত বিভাগের আবেদনের পর দেউবার স্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অর্জু রানা দেউবার বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

দেউবা জানান, তিনি ও তার স্ত্রী ‘দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন’, তবে বিস্তারিত জানাননি।

নেপালি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সম্প্রতি এই দম্পতি সিঙ্গাপুরে ছিলেন এবং পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল নোটিশ জারির চেষ্টা করছে।

র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা ৩৫ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের প্রাণঘাতী ঘটনার পর অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে ভূমিধস জয় পাওয়ার এক মাস পর এই পরোয়ানা জারি হয়েছে।

পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা দেউবা নেপালি কংগ্রেস পার্টির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা।

তিনি বলেন, ‘আমার জীবন একটি খোলা বই। নেপালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আমি সারাজীবন চেষ্টা করেছি।’

জানুয়ারিতে দলীয় সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তরুণ সদস্যদের চাপের মুখে তাকে নেতৃত্ব ছাড়তে হয়।

গত মাসে, সেপ্টেম্বরের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে দমন-পীড়নের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুব নেতৃত্বাধীন ওই আন্দোলন কাঠমান্ডু থেকে শুরু হয়ে দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার ক্ষোভকে সামনে নিয়ে আসে।

বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ করে এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পতন ঘটায়।

দেউবার বাসভবনও পুড়িয়ে দেওয়া ভবনগুলোর একটি ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দম্পতির ওপর হামলার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তাদের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের খবরও প্রকাশিত হয়।

তদন্ত কমিশনে দেওয়া বিবৃতিতে দেউবা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো ‘সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি’।

তিনি বলেন, ‘এটি একটি ষড়যন্ত্র, যদিও এর পেছনে কে রয়েছে তা আমি জানি না।’

কমিশন দেউবার বাড়ি ও অন্যান্য সম্পত্তিতে পাওয়া কথিত নগদ অর্থের বিষয়ে আরও তদন্তের সুপারিশ করেছে।

এছাড়া অর্থপাচার তদন্তের অংশ হিসেবে গত মাসে সাবেক জ্বালানি মন্ত্রী দীপক খড়কাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।