শিরোনাম

ঢাকা, ৯ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিজেদের এক সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কাতার ভিত্তিক সম্প্রচার মাধ্যম আল জাজিরা। তারা একে ‘পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।
এক বিবৃতিতে আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক জানায়, ‘গাজা উপত্যকার পশ্চিমে চলন্ত একটি গাড়িতে হামলা চালিয়ে আল জাজিরা মুবারশের সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহকে হত্যা করা হয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের তীব্র নিন্দা জানাই।’
দোহা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
চ্যানেলটি আরও জানায়, ‘এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। সাংবাদিকদের ভয় দেখাতে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।’
এ ঘটনায় তারা ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনীকে’ সম্পূর্ণ দায়ী করেছে।
মিডিয়া অধিকার সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) একই ধরণের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, গত আড়াই বছরে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত ২২০ জনের বেশি সাংবাদিকের তালিকায় উইশাহর নাম যুক্ত হলো।
এদের মধ্যে অন্তত ৭০ জন দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এই হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ওই হামলায় উইশাহসহ আরও একজন নিহত হন।
তিনি বলেন, ‘গাজা সিটির পশ্চিমের শেখ আজলিন এলাকায় একটি গাড়িতে বোমা হামলায় দুই জন শহীদ হন। তাদের একজন আল জাজিরার সংবাদদাতা মোহাম্মদ উইশাহ।’
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনি ইসলামপন্থী আন্দোলন হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত আল জাজিরার অন্তত ১১ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
২০২৫ সালের আগস্টে আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ সালামা নিহত হন। এর আগে ওই মাসেই গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের বাইরে ইসরাইলি বিমান হামলায় আল জাজিরার চার কর্মী ও দুই ফ্রিল্যান্সার নিহত হন, যা ব্যাপক নিন্দার জন্ম দেয়।
বিবৃতিতে আল জাজিরা জানায়, গাজায় তাদের সাংবাদিক ও কর্মীদের হত্যার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে তারা ‘সব ধরণের প্রয়োজনী আইনি পদক্ষেপ’ নেবে এবং নিহত সাংবাদিকদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাবে।
যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকলেও, ইসরাইল ও হামাস পরস্পরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। তারা দাবি করছে, এ সব হামলার লক্ষ্য হামাসের যোদ্ধারা।