বাসস
  ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৯

নাসার আর্টেমিস-২: অর্ধশতাব্দী পর আজ চাঁদে যেতে প্রস্তুত ৪ নভোচারী

ঢাকা, ২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো চাঁদে মানুষ পাঠানোর ঐতিহাসিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শেষ করেছে নাসা। আজ বুধবার চার নভোচারীর আসন গ্রহণের মাধ্যমে এই যাত্রার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে।

কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ‘আর্টেমিস-২’ নামের এই মিশনটি সফল করতে কয়েক বছর ধরে কাজ চলছে। বারবার বিলম্ব আর বিশাল খরচ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও অবশেষে ফ্লোরিডা থেকে আজ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে (জিএমটি রাত ১০টা ২৪ মিনিট) রকেটটি উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, মহাকাশযাত্রার পরিবেশ অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ।

নীল পাড়ের উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাকে সজ্জিত এই দলে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।

প্রায় ১০ দিনের এই মিশনে তারা চাঁদে অবতরণ না করেই পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করে ফিরে আসবেন। এর আগে ১৯৬৮ সালে অ্যাপোলো-৮ মিশন অনেকটা একইভাবে পরিচালনা করা হয়েছিল।

এই যাত্রা বেশ কিছু ঐতিহাসিক রেকর্ডের জন্ম দিচ্ছে। কারণ, এই প্রথম কোনো কৃষ্ণাঙ্গ, কোনো নারী এবং কোনো অ-মার্কিন নভোচারী চন্দ্রাভিযানে যাচ্ছেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সব ঠিক থাকলে, এই চার নভোচারী পৃথিবীর চেয়ে দূরবর্তী মহাকাশে পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড গড়বেন। এটি নাসার নতুন চন্দ্র রকেট ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস)-এর প্রথম নভোচারীসহ উড্ডয়ন।

কমলা ও সাদা রঙের বিশাল এই রকেটটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যেন যুক্তরাষ্ট্র বারবার চাঁদে যেতে পারে। সেখানে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির লক্ষ্য রয়েছে নাসার, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর মহাকাশ গবেষণার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

রেকর্ডের হাতছানি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার সিনেটর ও অবসরপ্রাপ্ত নভোচারী মার্ক কেলি এএফপি’কে বলেন, এই মিশনের উদ্দেশ্য আরও মহৎ।

তিনি বলেন, ‘তারা এটি নিজের জন্য করছেন না, করছেন দেশের জন্য। যখন আপনি ৮০ লাখ পাউন্ডের প্রচণ্ড ধাক্কায় ওপরের দিকে ছুটে চলা কোনো রকেটে ওঠার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন সেটি অবশ্যই হেলাফেলার বিষয় নয়। তবে আমাদের জাতির জন্য এর ইতিবাচক দিক অনেক বেশি।’

ফ্লোরিডার প্রখর রোদে রকেটের বিশাল চারটি ট্যাঙ্কে তরল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন ভরা হয়েছে। জ্বালানি ভরার পর রকেটটির ওজন দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০০ টনেরও বেশি।

মূলত গত ফেব্রুয়ারিতে এই মিশন শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বারবার দেরি হওয়ায় রকেটটিকে মেরামতের জন্য হ্যাঙ্গারেও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে এপ্রিলের এই মাহেন্দ্রক্ষণ নিয়ে নাসার কর্মকর্তারা এখন আত্মবিশ্বাসী।

আজকের উৎক্ষেপণ কোনো কারণে পিছিয়ে গেলে আগামী সোমবার পর্যন্ত আরও সুযোগ থাকছে। যদিও সপ্তাহের শেষ দিকে আবহাওয়ার কিছুটা অবনতি হতে পারে। 
স্থানীয় পুলিশ জানায়, এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখতে উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৪ লাখ মানুষ ভিড় করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর্টেমিস প্রকল্পের গতি বাড়ানোর জন্য চাপ দিয়ে আসছেন। তার লক্ষ্য, ২০২৯ সালের শুরুর দিকে দ্বিতীয় মেয়াদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যেন মানুষ চাঁদে পা রাখে।

আর্টেমিস-২ মিশনের মূল লক্ষ্য হলো রকেট ও মহাকাশযান ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা যাচাই করা, যাতে ২০২৮ সালে চাঁদে অবতরণ নিশ্চিত করা যায়। তবে বেসরকারি খাতের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতে হওয়ায় এই সময়সীমা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণার এই বর্তমান যুগকে চীনের সাথে প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘আমরা জিতছি। মহাকাশে, পৃথিবীতে এবং এর মাঝখানের সব জায়গায়। অর্থনৈতিকভাবে, সামরিকভাবে এবং এখন নক্ষত্র ছাড়িয়েও আমরা অপ্রতিরোধ্য। কেউ আমাদের ধারে-কাছেও নেই!’