বাসস
  ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৮

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলি হামলায় নিহত ৭

ঢাকা, ১ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর এবং নিকটবর্তী একটি শহরে ইসরাইলের বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। বুধবার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।

একই সময় ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ সদস্যদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে গত ২ মার্চ ইসরাইলের ওপর হামলা শুরু করে তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এর মাধ্যমে লেবানন মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইসরাইল লেবাননজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা এবং স্থল অভিযান চালাচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দক্ষিণ বৈরুতের জনা এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং ২১ জন আহত হয়েছে। লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ওই হামলায় পার্ক করে রাখা চারটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়, রাজধানীর দক্ষিণে খালদে এলাকায় একটি গাড়িতে চালানো পৃথক হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। 

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৈরুত এলাকায় পৃথক দুটি হামলায় হিজবুল্লাহর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং আরেক সদস্যকে লক্ষ্যবস্তু করে তারা। তবে তাদের পরিচয় বা সুনির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করেনি।

অন্যদিকে, সীমান্তজুড়ে ও লেবাননের ভেতরে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে দাবী করেছে হিজবুল্লাহ।

ইসরাইলের সামরিক বাহিনীর হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতের দিকে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় গালিলি এলাকায় বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। 

এর কয়েক ঘণ্টা আগে, হিজবুল্লাহ ৪০টিরও বেশি রকেট ছুড়েছে বলে ইসরাইলি গণমাধ্যমে খবর প্রচার করা হয়। অন্যদিকে, এদিন রাতেই একাধিক বিবৃতিতে উত্তর ইসরাইলে হামলার দাবি করে সংগঠনটি।

হিজবুল্লাহ আরও দাবি করেছে, বুধবার ভোরে সীমান্তের কাছে ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে তাদের যোদ্ধারা। এছাড়াও অন্য একটি এলাকায় একদল সেনাকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে তাদের কয়েকজন সদস্য হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে চার সেনা নিহত হয়েছেন।

লেবানন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১২শ’রও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।

ইসরাইল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহকে সীমান্ত এলাকা থেকে দূরে রাখতে দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকা দখলে নিয়ে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে চায় তারা।

মঙ্গলবার ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ‘সীমান্তসংলগ্ন লেবাননের সব গ্রামের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।’

এদিকে, লেবাননের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিশেল মেনাসা ইসরাইলের এই পরিকল্পনাকে ‘লেবাননের ভূখণ্ডে নতুন করে দখলদারিত্বের চেষ্টা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। 

অন্যদিকে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও ইসরাইলের এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।