বাসস
  ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৭

ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান : রোমাঞ্চিত কানাডীয় নভোচারী

ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা, ৩১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল বুধবারই এক নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে নাসা। প্রথমবারের মতো কোনো নারী, কৃষ্ণাঙ্গ এবং আমেরিকার নাগরিক নন- এমন একজনকে চাঁদের কক্ষপথে পাঠাতে প্রস্তুত মার্কিন মহাকাশ সংস্থাটি।

কেপ ক্যানাভেরাল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এই চার সদস্যের অভিযাত্রী দলে রয়েছেন কানাডীয় মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেন। তার এই যাত্রাকে ‘বিরাট এক অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তারই সহকর্মী ও বন্ধু জশুয়া কুট্রিক।

ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে হ্যানসেনকে বিদায় জানাতে এসেছেন কুট্রিক। রাজকীয় নীল রঙের ফ্লাইট স্যুট পরা কুট্রিক নিজেও আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১ এপ্রিলের এই সম্ভাব্য যাত্রা নিয়ে এএফপি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মার্কিন মহাকাশ অভিযানের নতুন এই অধ্যায়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সাক্ষাৎকারের প্রধান অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

এই অভিযান নিয়ে আপনার অনুভূতি কেমন?

এটি অত্যন্ত বড় একটি ঘটনা। এটি কেবল প্রথম কোনো কানাডীয় চন্দ্রাভিযানই নয়, বরং বিশ্বের প্রথম এমন এক অভিযান যেখানে সব সদস্যই মার্কিন নাগরিক নন। তাই কানাডায় এটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা কাজ করছে। আমি নিজেও খুব উত্তেজিত ও গর্বিত। জেরেমি আমার খুব ভালো বন্ধু এবং একজন দক্ষ মহাকাশচারী। কানাডার প্রতিনিধি হিসেবে তিনি দারুণ কাজ করছেন। তার এই যাত্রা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

কানাডার জন্য এই উৎক্ষেপণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

কানাডাকে এই অভিযানে আমন্ত্রণ জানানো কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। মহাকাশ গবেষণায় আমরা যে অবদান রেখেছি, নাসা তার মূল্যায়ন করেছে। এটি আমাকে যেমন আনন্দ দিচ্ছে, তেমনি কানাডীয় হিসেবে গর্বিত করছে। মহাকাশ গবেষণার শুরু থেকেই আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গী হিসেবে কাজ করছি। ৮০’র দশকে আমাদের মহাকাশচারীরা স্পেস শাটল প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছেন। মহাকাশ স্টেশন তৈরিতেও আমরা সাহায্য করেছি। এমনকি আজও মহাকাশ স্টেশনে যে রোবোটিক সিস্টেম কাজ করছে, তা আমাদেরই ডিজাইন ও তৈরি করা। বিশেষ করে ‘আর্টেমিস’ প্রকল্পে আমরাই প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের এই রূপকল্পে যোগ দিয়েছিলাম। এখন অনেক দেশ এর অংশ হলেও কানাডাই ছিল সবার আগে। আমরা এই অভিযানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও রোবোটিক যান দিয়ে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

কেন আবার চাঁদে ফেরা উচিত?

বর্তমানে বিশ্বের অনেক ঘটনাই আমাদের হতাশ করে। কিন্তু এই অভিযান আমাকে আশাবাদী করে তোলে। এটি প্রমাণ করে যে, আমরা এখনও অসম্ভবকে জয় করতে পারি। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশ মিলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা চাঁদে ফেরার মতো কঠিন কাজ করে দেখাচ্ছি। একজন মহাকাশচারী হিসেবে আমার বন্ধু চাঁদের উল্টো পিঠে যাচ্ছে, এটি ভাবতেই ভালো লাগে। তবে এটি কেবল রোমাঞ্চ নয়, বরং আমাদের সমাজের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমেই আমরা নতুন প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবন করতে পারছি, যা আমাদের আগামীর পথ দেখাবে। মহাকাশ মানেই নতুন সুযোগ। 

আর্টেমিস অভিযানের ভিন্নতা কোথায়?

প্রযুক্তিগত দিক থেকে এটি অ্যাপোলো অভিযানের চেয়ে অনেক আলাদা। অ্যাপোলোর লক্ষ্য ছিল অল্প কয়েকজনকে খুব কম সময়ের জন্য চাঁদে পাঠিয়ে ফিরিয়ে আনা। সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু আর্টেমিস প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি ও দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা নিশ্চিত করা। বর্তমানে আমরা মহাকাশ স্টেশনে যেভাবে ৬ মাস বা এক বছর দীর্ঘ সময় কাটিয়ে কাজ করি, ঠিক তেমনটিই আমরা চাঁদের বুকেও করতে চাই। অ্যাপোলোর সময় আমাদের কাছে এই প্রযুক্তি ছিল না। আরেকটি বড় পার্থক্য হলো, অ্যাপোলো ছিল কেবল যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রচেষ্টা। কিন্তু আর্টেমিস অভিযানে বিশ্বের ডজনখানেক দেশ একত্রে কাজ করছে।