শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ইরানি কর্তৃপক্ষ আজ সোমবার দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিষিদ্ধ বিরোধী গোষ্ঠীর সদস্য এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র উৎখাতের চেষ্টা করেছিল।
দেশটির বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক রায় নিশ্চিতকরণ ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আজ সকালে আকবর দানেশভারকর এবং মোহাম্মদ তাঘাভি-সাংদেহিকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ওপর হামলার পর ইরান যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত, ঠিক তখনই এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। চলমান সংঘাতটি মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তি পিপলস মুজাহিদিন অফ ইরান বা মুজাহিদিন-ই-খালক (এমইকে)-এর সাথে যুক্ত ছিলেন। এই গোষ্ঠী ১৯৮০-এর দশক থেকে নির্বাসনে রয়েছে এবং তেহরান কর্তৃক এটি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
তাদের কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বা তারা সাম্প্রতিক বিক্ষোভে জড়িত ছিল কিনা, তা তাৎক্ষণিকভাবে বলা হয়নি। তবে মিজান বলেছে যে, তারা ‘দাঙ্গা এবং শহরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ অংশ নিয়েছিল।
ইরানে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল গত ডিসেম্বরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে। পরে তা সারাদেশে সরকার বিরোধী আন্দোলনে পরিণত হয় এবং ৮ ও ৯ জানুয়ারি চরম আকার ধারণ করে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রাথমিকভাবে শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভ বিদেশি উস্কানিতে পরে হত্যা ও ভাঙচুরের মতো সৃষ্ট দাঙ্গায় রূপ নেয়।
তেহরান বলছে, এই অস্থিরতার সময় নিরাপত্তা কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকসহ তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং এই সহিংসতার জন্য তারা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’কে দায়ী করেছে।
তবে, যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা (এইচআরএএনএ) সাত হাজারেরও বেশি মৃত্যুর খবর নথিভুক্ত করেছে, যাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, মৃতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।