বাসস
  ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫৯

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে হামলায় ৩ যোদ্ধা নিহত

ঢাকা, ২৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ইরাকের উত্তরাঞ্চলে শনিবার এক হামলায় সাবেক প্যারামিলিটারি জোট হাসেদ আল-শাবি’র তিন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। জোটটি এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে।

বাগদাদ থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

মসুলের একটি পুলিশ স্টেশনে পৃথক হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হামলার জন্যও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলকে দায়ী করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরাক ক্রমেই এ সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। যদিও দেশটি সহিংসতা এড়িয়ে চলতে চেয়েছিল।

ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে।

পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নামে পরিচিত হাসেদ আল-শাবি’র হাসেদ ঘাঁটিও একাধিক হামলার শিকার হয়েছে। নিয়মিত সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এর মধ্যে কিছু ইরানপন্থী গোষ্ঠী স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালিয়েছে। অতীতে এসব হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে পিএমএফ।

জোটের ভাষ্য, কিরকুক শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ‘বিশ্বাসঘাতক জায়নিস্ট-যুক্তরাষ্ট্র হামলায়’ তিন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চারজন। 

ক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, একই হামলায় ছয় ইরাকি সেনাও আহত হয়েছেন। তিনি আরও জানান, হামলাটি ইরাকি বিমানবাহিনী ও বিশেষ বাহিনীর ঘাঁটির কাছে হয়েছে।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলার জন্য দায়ী পক্ষ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলাকালে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম ইরাকে একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে হামলায় সাত নিরাপত্তা সদস্য নিহত হওয়ার পর উত্তেজনা বাড়ে।

ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী না করলেও এ হামলার জেরে দেশটির চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করা হয়েছে। 

যদিও ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।

পরে শনিবার মসুল পুলিশ স্টেশনে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কর্মকর্তারা। পিএমএফ জানায়, ওই স্থাপনাটি তাদের বাহিনীর সঙ্গেও যৌথভাবে ব্যবহৃত হত।

এই সহিংসতার একদিন আগেই ওয়াশিংটন ও বাগদাদ হামলা প্রতিরোধ ও ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনায় আক্রমণ ঠেকাতে সহযোগিতা জোরদারের ঘোষণা দেয়।

ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ওপর হামলার পাশাপাশি তেহরান-সমর্থিত বিভিন্ন পক্ষ ইরাক ও অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে মার্কিন উপস্থিতি লক্ষ্য করে প্রায় প্রতিদিনই ড্রোন ও রকেট হামলার দাবি করছে। 

গত ১০ দিনে প্রথমবারের মত শনিবার রাতে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে দুটি ড্রোন ছোড়া হয়। পরে সেগুলো গ্রিন জোনের বাইরে ভূপাতিত করা হয়। 

১৮ মার্চের সর্বশেষ হামলার পর প্রভাবশালী ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহ পাঁচ দিনের জন্য এ ধরনের হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও পরে সেই সময় আরও দু’দফায় বাড়ানো হয়। 

-ইরবিলে বিস্ফোরণ-

উত্তরে স্বায়ত্তশাসিত ইরাকি কুর্দিস্তানের নেতা নেচিরভান বারজানির দ্বিতীয় বাসভবনকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাগদাদ। 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাঁখো এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। 

এএফপির এক সাংবাদিক জাানন, শনিবার রাতে ইরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর পরপরই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। সকালে আরও একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

শহরটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় কনস্যুলেট কমপ্লেক্স রয়েছে। বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জঙ্গিবিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক উপদেষ্টারাও অবস্থান করছেন। 

এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, রাতে বাগদাদ বিমানবন্দরের যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কেন্দ্রেও একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি। 

এদিকে, রাতে বাগদাদ বিমানবন্দরে একটি মার্কিন কূটনৈতিক কেন্দ্র লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।