বাসস
  ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২০

ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে যাচ্ছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট শারা

ঢাকা, ২৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় গতকাল শনিবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আগামী সপ্তাহে জার্মানি ও ব্রিটেনে সফর করবেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই হবে এই দুটি দেশে তাঁর প্রথম সফর।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, শারা সোমবার ও মঙ্গলবার জার্মানি ও যুক্তরাজ্য উভয় দেশে সরকারি সফরে যাবেন এবং তিনি উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে বৈঠক করবেন।

জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র গত শুক্রবার বলেছেন যে, শারা চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জের সাথে আলোচনার জন্য দেশটি সফর করবেন।

বার্লিন জানিয়েছে, এই আলোচনায় সিরিয়ার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন, জ্বালানি, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালীকরণ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় সিরিয়ার পুনঃএকত্রীকরণ এবং জার্মানিতে বসবাসকারী সিরীয়দের প্রত্যাবর্তনের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে দামেস্ক এবং ইউরোপীয় রাজধানীগুলোর মধ্যে ধীরে ধীরে সম্পর্ক উন্মুক্ত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জার্মানি ২০২৫ সালের মার্চে দামেস্কে তার দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে, অন্যদিকে সিরিয়া গত মাসে বন-এ একটি কনস্যুলেট খুলেছে।

জার্মানিতে প্রায় ১০ লাখ সিরীয় বাস করে — যাদের মধ্যে অনেকেই ২০১৫ সালে তৎকালীন চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের শাসনামলে শরণার্থীদের বিশাল স্রোতের সময় এসেছিলেন, যা তখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

কিন্তু আসাদের পতন এবং দেশের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর, জার্মানির কিছু মহল তাদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানাতে শুরু করেছে।

যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে, শারার এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন লন্ডন ২০২৫ সালের জুলাই মাসে সিরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণাটি আসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির দামেস্ক সফরের পর, যা ছিল ১৪ বছরের মধ্যে কোনো ব্রিটিশ মন্ত্রীর প্রথম সফর।

ব্রিটিশ সরকার তখন বলেছিল যে, দামেস্কের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক রূপান্তরকে সমর্থন করা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা, ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর মোকাবিলা করা, অবৈধ অভিবাসন হ্রাস করা এবং রাসায়নিক অস্ত্রের বিষয়টি সমাধান করা।

শারা ২০২৫ সালের মে মাসে ক্ষমতা গ্রহণের পর তার প্রথম ইউরোপীয় সফরে ফ্রান্সে গিয়েছিলেন, যেখানে প্যারিসে তাকে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ অভ্যর্থনা জানান।

তার বর্তমান সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন তিনি ১৪ বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত সিরিয়াকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পরিণতি থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কাজ করছেন।