শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে রাশিয়ার একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, যা ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে প্রথম। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি রাশিয়ার আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনঃপ্রবেশের জন্য বাড়তে থাকা প্রচেষ্টার ইঙ্গিত বহন করছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
রাশিয়ার উত্থাপিত খসড়াটি সাদামাটা মনে হয়েছে, যেখানে কেবল দেশগুলোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি গৃহীত হওয়ার ৬০তম বার্ষিকী যথাযথভাবে উদযাপন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিষদের ৪৭টি সদস্যের মধ্যে ২৬টি দেশের সমর্থনে এবং কোনো বিপক্ষে ভোট না পড়ায় প্রস্তাবটি পাস হয়, তবে প্রধানত পশ্চিমা ২১টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর পরিষদ থেকে রাশিয়াকে স্থগিত করার পর, রাশিয়ার খসড়া করা কোনো প্রস্তাবের এটিই প্রথম পাস হল।
কাউন্সিল পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ার প্রস্তাবনা এতটাই নিরপেক্ষ ছিল যে দেশগুলোর জন্য এর বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
হিউম্যান রাইটস হাউস ফাউন্ডেশনের ডেভ এলসারোড ডেভ এলসেরোড এএফপিকে বলেন, ‘রাশিয়ার এই প্রস্তাবনা চার বছর আগে যে সংস্থা থেকে তারা বহিষ্কৃত হয়েছিল, সেটিতে পুনঃসংযোগের জন্য একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যেসব দেশ মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় আগ্রহী, তাদের মানবাধিকার পরিষদে এবং সমগ্র বহুপাক্ষিক ব্যবস্থায় রাশিয়ার আরও আগ্রাসী মনোভাবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
ভোটের আগে, রাশিয়ার প্রতিনিধি সকল দেশকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাদের জন্য মানবাধিকার কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়।
বেশ কয়েকজন পশ্চিমা কূটনীতিক বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে, তারা ১৯৬৬ সালে সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর)-কে সম্পূর্ণরূপে সমর্থন করেন, তবে তারা এই খসড়াটির পক্ষে ভোট দিতে পারবেন না।
যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার রাষ্ট্রদূত এলেনর স্যান্ডার্স কাউন্সিলে বলেন, ‘রাশিয়া যখন এই চুক্তিগুলোর বহু নীতি ও মূল্যবোধ লঙ্ঘন করছে, তখন প্রস্তাবনা কাউন্সিলে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাইপ্রাসের রাষ্ট্রদূত অলিম্পিয়া নিওক্লিয়াস উল্লেখ করেন যে, পরিষদ কর্তৃক নিযুক্ত তদন্তকারীরা নির্ধারণ করেছেন যে, রুশ কর্তৃপক্ষ ইউক্রেনে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধ করেছে।
তিনি রাশিয়ার ‘বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত মানবাধিকার মানদণ্ডের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা’র নিন্দা জানিয়েছেন।
রাশিয়া জানিয়েছে যে, তারা তাদের খসড়াটির জন্য কয়েক ডজন সহ-প্রস্তাবক জোগাড় করেছে এবং বেশ কয়েকটি দেশ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাদের সমালোচনা করেছে, যারা শুধুমাত্র মস্কোর প্রণীত হওয়ার কারণে প্রস্তাবটিকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
চীনের প্রতিনিধি বলেছেন, পরিষদে ‘রাজনৈতিকীকরণ এবং মেরুকরণ’ বাড়ছে এবং অভিযোগ করেছেন যে ‘দ্বৈত নীতি ক্রমশ ব্যাপক আকার ধারণ করছে।