শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পুনরায় পিছিয়ে দেওয়ার পর তেলের দামে আজ শুক্রবার পতন ঘটেছে।
তবে হোয়াইট হাউস থেকে বিভ্রান্তিমূলক বার্তা আসার কারণে শেয়ারবাজারও চাপের মুখে পড়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, যদি ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয়, তাহলে তিনি ইরানের জ্বালানি সংক্রান্ত স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে ফেলবেন। কিন্তু পরে তিনি ইতিবাচক শান্তিচুক্তি আলোচনার কথা বলে সেই সময়সীমা আরো পাঁচ দিন পিছিয়ে দিয়েছেন। যদিও তেহরান দাবি করেছে, এমন কোনো আলোচনা হয়নি।
তবে উভয় পক্ষের কয়েক দিনের হামলা এবং বহু-দফা দাবির আদান-প্রদানসহ আলোচনা সংক্রান্ত মিশ্র খবরের পর, তেহরানের অনুরোধে তিনি বৃহস্পতিবার আবারও হামলা ৬ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন, আলোচনা চলমান রয়েছে। ভুয়া খবর ছাপানো সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্যদের ভুল দাবি সত্ত্বেও এগুলো খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি পোস্টে লিখেছেন, ইরানি সরকারের অনুরোধ অনুযায়ী... আমি জ্বালানি কেন্দ্র ধ্বংসের সময়সীমা ১০ দিন স্থগিত করেছি আগামী ৬ এপ্রিল ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত।
ট্রাম্প আগে অস্বীকার করেছিলেন যে, তিনি যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তির জন্য মরিয়া ছিলেন। যদিও ইরান মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার প্রতি উদাসীন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ানোর আশঙ্কা ছিল।
মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার প্রতি ইরানের উদাসীন প্রতিক্রিয়া এবং তেলের মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেবে এমন আশঙ্কা সত্ত্বেও, ট্রাম্প এর আগে যুদ্ধ শেষ করার জন্য একটি চুক্তির ব্যাপারে তার মরিয়া থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন।
ট্রাম্প পরে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে বলেন, আলোচনায় নিজেদের আন্তরিকতা দেখাতেই ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০টি তেল ট্যাংকারকে যাতায়াতের অনুমতি দিয়েছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তিনি দাবি করেন যে, ইরান শান্তিচুক্তি আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য ওয়াশিংটনের ১৫-দফা পরিকল্পনার জবাবে দেশটির প্রতিক্রিয়া গত রাতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়েছে এবং ইরান অপর পক্ষের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা বন্ধ এবং তেহরান সমর্থিত গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।
এতে যুদ্ধকালীন ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার সময়েই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
শুক্রবার তেলের দাম এক শতাংশের বেশি কমেছে, যদিও আগের দিনের ঊর্ধ্বগতি আংশিকভাবে কেটে গেছে। বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন যে— সংঘাত সম্ভবত প্রথম দিককার ধারণার চেয়ে অনেক দীর্ঘ সময় চলতে পারে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে, অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
ওয়াল স্ট্রিটে ব্যাপক লোকসানের পর শেয়ার বাজারেও ধস নামে।
বছরের প্রথম দুই মাসে সবচেয়ে ভালো পারফর্ম করা টোকিও এবং সিউল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ছিল। অন্যদিকে হংকং, সিডনি, ওয়েলিংটন, তাইপেই, জাকার্তা এবং ম্যানিলায় তেলের দরও তীব্রভাবে কমে গিয়েছিল। সাংহাই এবং সিঙ্গাপুরের দর ওঠানামা করেছে।
হোয়াইট হাউসের বার্তা নিয়েও বিনিয়োগকারীরা ক্রমশ সন্দিহান হয়ে উঠছেন, কারণ ট্রাম্প প্রায়শই হুমকি এবং শান্তির কথার মধ্যে দোদুল্যমান থাকছেন।
বিনিয়োগকারীদের একটি বিশ্লেষণ টুলের কথা উল্লেখ করে এসপিআই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের স্টিফেন ইনেস বলেন, ‘১০ দিনের বর্ধিত সময়কে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু বাজারের পরিভাষায়, এটি অনেকটা একজন ট্রেডারের লোকসানি পজিশনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো, এই আশায় যে পরের ক্যান্ডেলটি তা দেবে যা আগেরটি দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের রে অ্যাট্রিল বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা হচ্ছে কি না, তা এখনো বিতর্কিত। কারণ, ইরান জোর দিয়ে বলছে যে, একজন বন্ধুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর (সম্ভবত পাকিস্তান) মাধ্যমে চিঠিপত্রের আদান-প্রদানকে আলোচনা হিসেবে গণ্য করা যায় না।’
এদিকে, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সতর্ক করেছে যে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা ‘গত ৮০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার’ সম্মুখীন হচ্ছে, এবং বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে যে, তারা উদীয়মান দেশগুলোকে অবিলম্বে আর্থিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো যখন অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (ওইসিডি) সতর্ক করেছে যে, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে এই বছর মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি চার শতাংশের বেশি হতে পারে। এটি তাদের পূর্ববর্তী ২.৮ শতাংশের পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি।
জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বৃদ্ধির আশঙ্কায় ফেডারেল রিজার্ভের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সুদের হার শিগগিরই কমার সম্ভাবনা নেই।
অর্থনৈতিক প্রভাব আরো খারাপ হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।