শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন 'বোর্ড অফ পিস' উদ্যোগের গাজা প্রতিনিধি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের প্রতি দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে একটি যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বোর্ডের গাজা প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত প্রবীণ বুলগেরীয় কূটনীতিক নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, ‘আমি পরিষদের সদস্যদের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন তাদের হাতে থাকা সমস্ত উপায় ব্যবহার করে হামাস এবং সকল ফিলিস্তিনি দলকে অবিলম্বে এই কাঠামোটি মেনে নিতে আহ্বান জানান।’
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ফিলিস্তিনি সংঘাত নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থ হওয়া প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি দিনের মানবিক মূল্য রয়েছে এবং এটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী শান্তির প্রক্রিয়াকে আরও ক্ষুণ্ন করছে।’
ট্রাম্প প্রশাসন, কাতার ও মিশরের সাথে মিলে গাজায় দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধ থামাতে গত অক্টোবরে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করে।
গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন জানায়, তারা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করছে, যেখানে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলাটিই এই ব্যাপক অভিযানের সূত্রপাত করেছিল।
এতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এবং একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে সহিংসতা হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরাইলি হামলা মাঝে মাঝে অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হামাস ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া শর্তের অধীনে নিরস্ত্র হতে অস্বীকার করেছে।
ম্লাদেনভ বলেন, ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র ত্যাগ গাজায় দশকের পর দশক ধরে চলা সহিংসতার চক্র থেকে একটি নির্ণায়ক বিচ্ছিন্নতা ঘটাবে।’
ট্রাম্পের শান্তি বোর্ড একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে গাজার জন্য ব্যাপক পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সরকারি ইসরাইলি তথ্যের ভিত্তিতে এএফপির হিসাব অনুযায়ী জানা গেছে, গাজায় যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালে ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার মাধ্যমে এবং এখন পর্যন্ত সেখানে ১,২২১ জন নিহত হয়েছে।
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলের সামরিক অভিযানে গাজায় অন্তত ৭২,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান জাতিসংঘের কাছেও সাধারণত নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত।
এছাড়াও বৈঠকে জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের উপ-বিশেষ সমন্বয়ক রামিজ আলাকবারভ পশ্চিম তীরে ‘সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার’ বিষয়ে সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সহিংসতা ‘ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়কে আরও বাস্তুচ্যুত করার’ ঝুঁকি তৈরি করছে।