বাসস
  ২২ মার্চ ২০২৬, ১৩:৫২

সুদানের হাসপাতালে হামলায় নিহত ৬৪, আহত ৮৯: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

ছবি : বাসস

ঢাকা, ২২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : সুদানের একটি হাসপাতালে হামলায় ৬৪ জন নিহত ও আরও ৮৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন শিশু রয়েছে। শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

খবর, বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ডব্লিউএইচও’র প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানান, গত শুক্রবার পূর্ব দারফুরের রাজধানী এল-দাইন শহরের এল-দাইন টিচিং হাসপাতালে এই হামলা চালানো হয়। 

তিনি বলেন, ‘যথেষ্ট রক্ত ঝরেছে।’ এসময় প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি জানান, হামলায় নিহতদের মধ্যে ১৩ জন শিশু, দুইজন নারী নার্স, একজন পুরুষ চিকিৎসক এবং একাধিক রোগী রয়েছেন।

সুদানের মানবাধিকার সংস্থা ইমার্জেন্সি লয়ার্স দাবি করেছে, হাসপাতালটিতে সেনাবাহিনীর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

আধাসামরিক র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) পশ্চিম সুদানের বিস্তীর্ণ দারফুর অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। অন্যদিকে সেনাবাহিনী পূর্ব, মধ্য ও উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে।

টেড্রোস বলেন, হামলায় আটজন স্বাস্থ্যকর্মী আহত হওয়ায় হাসপাতালের শিশু, প্রসূতি ও জরুরি বিভাগের সেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি জানান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে হাসপাতালটি এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

ডব্লিউএইচও স্থানীয় স্বাস্থ্য অংশীদারদের সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানো, আহতদের চিকিৎসা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ট্রমা কেয়ারের সরঞ্জাম ও জরুরি ওষুধ সরবরাহ।

আরএসএফ নিয়ন্ত্রিত এল-দাইন শহরটি সুদানের সেনাবাহিনীর নিয়মিত   আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

সেনাবাহিনী আধাসামরিক বাহিনীকে দারফুরের শক্ত ঘাঁটিগুলো থেকে সরিয়ে সুদানের কেন্দ্রীয় করিডোর থেকে দূরে ঠেলে দিতে চেষ্টা করছে।

চলতি মাসের শুরুতে শহরের একটি বাজারে চালানো সর্বশেষ হামলায় তেলের ব্যারেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্বলতে থাকে।

স্বাস্থ্যসেবার ওপর হামলা পর্যবেক্ষণে ডব্লিউএইচও’র নজরদারি ব্যবস্থা (এসএসএ) এসব ঘটনা গণনা ও যাচাই করে। তবে এটি কোনো তদন্তকারী সংস্থা নয় তাই কাউকে দায়ী করে না।

সুদানে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দপ্তর বলেছে, তারা ‘এই হামলায় স্তম্ভিত’।

জাতিসংঘের বারবার নিন্দা সত্ত্বেও, ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ জুড়ে হাসপাতালগুলো নিয়মিত হামলার শিকার হচ্ছে।

এই হামলার পর সংঘাত চলাকালে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর ওপর হামলায় নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে।

ডব্লিউএইচও’র এসএসএ তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ২১৩টি হামলায় এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৬ জন নিহত হয়েছেন।

টেড্রোস বলেন, প্রাণহানির পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার ওপর হামলা তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এতে এমন কমিউনিটিগুলো আরও বিপদে পড়েছে, যারা আগে থেকেই জরুরি ও নিয়মিত চিকিৎসা সেবার সংকটে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা কখনোই লক্ষ্যবস্তু হওয়া উচিত নয়। শান্তিই সর্বোত্তম ঔষধ।’

এসএসএ’র তথ্য অনুযায়ী, সুদানে স্বাস্থ্যসেবার ওপর হামলা প্রতি বছরই বাড়ছে।

২০২৩ সালে ৬৪টি হামলায় ৩৮ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে ৭২টি হামলায় ২০০ জন মারা যান।

২০২৫ সালে ৬৫টি হামলায় নিহত হন ১ হাজার ৬২০ জন- যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার ওপর হামলায় মোট মৃত্যুর ৮২ শতাংশ।

ডব্লিউএইচও’র স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি বিভাগ (এসএসএ) জানায়, শুক্রবারের হামলায় ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এতে হাসপাতাল, কর্মী ও রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মজুত সামগ্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সুদানে প্রায় প্রতিদিন ড্রোন হামলা হচ্ছে। এসব হামলায় একসঙ্গে অনেক মানুষ নিহত হচ্ছেন, বিশেষ করে দক্ষিণ কর্ডোফান অঞ্চলে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক জানান, আট দিনের মধ্যে ড্রোন হামলায় ২০০ জনের বেশি সাধারণ জনগণ নিহত হওয়ায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও হতবাক।

তিনি বলেন, সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলো জনবহুল এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে বিস্ফোরক বহনকারী শক্তিশালী ড্রোন ব্যবহার করছে।

সারাদেশে এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছে।

জাতিসংঘের ভাষায়, এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি যা ক্ষুধা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। এখানে বর্তমানে ৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

টেড্রোস বলেন, ‘যথেষ্ট রক্তপাত হয়েছে। দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সুদানে সংঘাতের তীব্রতা কমাতে হবে এবং বেসামরিক নাগরিক, স্বাস্থ্যকর্মী ও মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’