বাসস
  ২১ মার্চ ২০২৬, ১২:২৩

ইরান যুদ্ধ ‘গুটিয়ে আনার’ কথা ভাবছেন ট্রাম্প, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ২১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। গতকাল শুক্রবার তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে, ইরানি তেলের ওপর কিছুটা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

এদিকে সৌদি আরব ও ইসরাইলের ওপর ইরান নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। 

দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দাবি করেছেন যে তারা শত্রুপক্ষের ওপর ‘বড় ধরনের আঘাত’ হেনেছেন।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এ দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। আর তাই মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের বৃহৎ সামরিক প্রচেষ্টা গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছি।’

এই মন্তব্যকে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত শেষ করার সম্ভাবনার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগন পূর্বাভাস দিয়েছিলেন যে এই অভিযান সম্পন্ন করতে প্রায় ৪৬ সপ্তাহ সময় লাগবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘তৃতীয় সপ্তাহ চলছে এবং মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী অসাধারণ কাজ করছে।’

অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কার মধ্যে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, ইতোমধ্যে জাহাজে লোড করা ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এই অনুমতির আওতায় ২০ মার্চের আগে জাহাজে লোড করা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহ ও বিক্রি করা যাবে। 

মার্কিন অর্থমন্ত্রী মন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, এতে প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে আসবে, যা সরবরাহ বাড়িয়ে সাময়িক চাপ কমাতে সহায়ক হবে।

-বাড়ছে উত্তেজনা-

বিশ্বের তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে এমন হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে দেওয়ায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোতে একের পর এক হামলার ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে।

শুক্রবার উত্তর সাগরের ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ১১২ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায়, ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারের দাম তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে।

এদিকে গতকাল  শুক্রবার তেহরানে নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এদিকে ইসরাইল অভিযোগ করেছে যে ইরান জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এক হামলায় প্রাচীন শহরের আল-আকসা মসজিদ, ওয়েস্টার্ন ওয়াল ও চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকারের কাছে একটি বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তাদের পূর্বাঞ্চলে ২০টিরও বেশি ইরানি ড্রোন প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে। 

ইসরাইলও জানিয়েছে, ইরান থেকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

কুয়েতে মিনা আল-আহমাদি শোধনাগারে গতকাল শুক্রবার ড্রোন হামলা চালানো হয়। ফলে এতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যা পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এর একদিন আগে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ রাস লাফান প্রাকৃতিক গ্যাস স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়।

অন্যদিকে, ইসরাইল শনিবার ভোরে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং তুরস্ক সিরিয়ার দক্ষিণে সিরীয় সেনাঘাঁটিতে ইসরাইলি হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ বলে নিন্দা জানায়।

সিরিয়া এখন পর্যন্ত আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে চলেছে।

-আমরা জিতেছি-

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চান না। তার ভাষায়, ‘আমরা জিতেছি বলে মনে করি... যখন আপনি প্রতিপক্ষকে কার্যত ধ্বংস করছেন, তখন যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন নেই।’

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে অন্য দেশগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে শীর্ষ নেতাদের নিহত হওয়ার কারণে কার্যত আলোচনার মতো কেউ নেই।

তিনি আরও বলেন, আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর থেকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা জনসমক্ষে আসেননি।

মোজতবা খামেনি পারস্য নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, ইরানিরা শত্রুকে এমন এক ‘চরম আঘাত’ দিয়েছে, যার ফলে এখন সে পরস্পর বিরোধী কথা ও অযৌক্তিক মন্তব্য করতে শুরু করেছে।

মোজতবা খামেনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে, আমাদের দেশবাসীর মধ্যে যে বিশেষ ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলেই শত্রু পরাজিত হয়েছে।’

ট্রাম্প বারবার বলেছেন যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে স্থলবাহিনী পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তার নেই।  

কিন্তু দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে যে, অতিরিক্ত ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা ওই অঞ্চলের দিকে পাঠানো হচ্ছে।