বাসস
  ১৬ মার্চ ২০২৬, ২০:০৬

হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুতে ন্যাটোর সহায়তা প্রশ্নে শীতল প্রতিক্রিয়া পশ্চিমের 

ঢাকা, ১৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে ন্যাটো সদস্যদের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের জবাবে সোমবার ন্যাটো মিত্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলো আপত্তি জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি বন্ধ করে দিয়েছে।

লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, যুক্তরাজ্যর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, লন্ডন মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে যাতে নৌপথটি পুনরায় চালুর জন্য একটি ‘কার্যকর’ পরিকল্পনা তৈরি করা যায়। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি কোনো ন্যাটো মিশন হবে না। অন্যদিকে বার্লিন জানিয়েছে, এটি ‘ন্যাটোর যুদ্ধ নয়’।

পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি বলেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে ‘এই অভিযানে পোলিশ সশস্ত্র বাহিনীর অংশগ্রহণ’ নাকচ করে দিয়েছেন। আর স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রব্লেস বলেন, মাদ্রিদ ‘কোনোভাবেই’ সামরিক অবদান রাখার বিষয়টি বিবেচনা করছে না।

ইউরোপীয় দেশগুলোর এই শীতল প্রতিক্রিয়া আসে এমন সময়, যখন সোমবার এর আগে জাপান ও অস্ট্রেলিয়া একই ধরনের অবস্থান জানিয়েছে। ক্যানবেরা স্পষ্ট করে বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালীতে কোনো নৌযান পাঠাবে না।

সপ্তাহান্তে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশকে প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল নিরাপদ রাখতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করা হলে তা ‘ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুবই খারাপ’ হবে।

প্রণালীটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং ইরান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করায় সোমবারও তা ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। এই অস্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

স্টারমার, যিনি ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যোগ না দেওয়ায় ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন, সাংবাদিকদের বলেন তিনি রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি ডাউনিং স্ট্রিটে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আমাদের সব মিত্র দেশের সঙ্গে, ইউরোপীয় অংশীদারদেরও অন্তর্ভুক্ত করে, একটি কার্যকর যৌথ পরিকল্পনা তৈরির জন্য কাজ করছি—যাতে যত দ্রুত সম্ভব ওই অঞ্চলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করা যায় এবং অর্থনৈতিক প্রভাব কমানো যায়।’

স্টারমার বলেন, ‘স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটি ন্যাটো মিশন হবে না এবং কখনো এমনভাবে পরিকল্পনাও করা হয়নি।’ একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটেন ‘বৃহত্তর যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে না’।

তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত যে কোনো উদ্যোগ ‘অংশীদার দেশগুলোর একটি জোটের মাধ্যমে’ পরিচালিত হতে পারে।

উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান

বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসের মুখপাত্র বলেন, এই সংঘাতের সঙ্গে ন্যাটোর ‘কোনো সম্পর্ক নেই’।

মুখপাত্র স্টেফান কর্নেলিয়ুস সাংবাদিকদের বলেন, ‘ন্যাটো মূলত ভূখণ্ড রক্ষার জন্য একটি প্রতিরক্ষা জোট’ এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যাটো মোতায়েনের কোনো ম্যান্ডেট নেই।

এদিকে জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্তোরিয়ুস বলেন, তার দেশ এই যুদ্ধে ‘কোনো সামরিক অংশগ্রহণ’ করবে না। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌযান চলাচল নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন দিতে জার্মানি প্রস্তুত।

ট্রাম্পের সামরিক সহায়তার আহ্বানের পর ইউরোপের কয়েকটি দেশ সতর্ক অবস্থান নেয়, যেখানে তারা একদিকে আলোচনা উন্মুক্ত রাখলেও সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের আগে ড্যানিশ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ চাইনি। শুরু থেকেই আমরা উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তবে আমাদের খোলা মনে ভাবতে হবে এবং কীভাবে আমরা অবদান রাখতে পারি তা দেখতে হবে।’ পরিস্থিতিকে তিনি ‘অত্যন্ত, অত্যন্ত গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেন।

লিথুয়ানিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেস্তুতিস বুদরিস বলেন, ন্যাটো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার অনুরোধ ‘বিবেচনা করতে পারে’। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের পুরো অপারেশনাল পরিবেশ এবং আমরা কী সক্ষমতা দিয়ে অবদান রাখতে পারি তা আগে দেখতে হবে।’

একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কুস সাখনা। তিনি বলেন, তালিন ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে সব সময় প্রস্তুত, বিশেষ করে এখন হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে।’

তবে তিনি যোগ করেন, ‘এর অর্থ হলো, চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা কী, তা আগে আমাদের স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে।’