বাসস
  ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৮

হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার জাহাজের ২০ থাই নাবিক দেশে ফিরেছে

ঢাকা, ১৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার একটি কার্গো জাহাজের ২০ জন থাই নাবিক সোমবার দেশে ফিরেছেন। তবে তাদের আরও তিন সহকর্মী এখনও জাহাজটিতেই আটকা রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বন্দর থেকে রওনা হওয়ার পর উপসাগরীয় জলপথ অতিক্রমের সময় গত বুধবার থাই-নিবন্ধিত ‘মায়ুরি নারি’ নামের জাহাজটি দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড বলেছে, ‘সতর্কতা’ উপেক্ষা করায় ওই থাই জাহাজসহ একটি লাইবেরিয়া পতাকাবাহী জাহাজেও তারা হামলা চালিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ২০ নাবিক ভোরে থাইল্যান্ডের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে তাদের দ্রুত সরিয়ে নেন থাই কর্মকর্তারা ।

ফেরত আসা এক নাবিকের স্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, স্বামীর সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় রয়েছেন। 

ব্যাস নামের ৩২ বছর বয়সী ওই নারী বলেন, ‘আমরা সবাই ভীত। কিন্তু তারা তো চাকরি করে-যদি তারা সমুদ্রে যেতে অস্বীকার করে, তবে বেতন পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা কোথায় গেছেন বা কবে বাড়ি ফিরবেন, তা জানতাম না। কোম্পানি আমাকে কিছু জানায়নি।’

জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান ‘প্রিশিয়াস শিপিং’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফেরত আসা নাবিকদের চিকিৎসা পরীক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়নসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, এখনও নিখোঁজ থাকা তিন নাবিককে উদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। 

গত সপ্তাহে কোম্পানিটি জানায়, হামলার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ‘ইঞ্জিন কক্ষে’ ওই তিন নাবিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ মুখপাত্র মারাতে আন্দামো জানান, আটকে পড়া তিন নাবিককে উদ্ধারে দুটি দেশের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

থাই নৌবাহিনী জানায়, গত বুধবার ওমানের নৌবাহিনী ওই ২০ নাবিককে উদ্ধার করে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের ওপর হামলার পর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান রয়েছে। এর জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।

এই হামলাগুলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলেছে। 

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিতেও বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে।