বাসস
  ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৫:১৯

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘নির্ভরযোগ্য’ জ্বালানি সরবরাহ দিতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা, ১৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ‘নির্ভরযোগ্য’ জ্বালানি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

শনিবার মার্কিন ইন্টেরিয়র সেক্রেটারি ডগ বারগাম এই ঘোষণা দেন।

টোকিও থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে। যুদ্ধের প্রভাবে তেল-গ্যাস পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। 

উল্লেখ্য, এই পথ দিয়ে পরিবাহিত জ্বালানির সিংহভাগই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়।

টোকিওতে আয়োজিত এই অঞ্চলের ১৭টি দেশের এক সম্মেলনে বারগাম বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘এনার্জি ডমিন্যান্স’ নীতির লক্ষ্য হলো, নিজেদের সমৃদ্ধির জন্য জ্বালানি মজুদের পাশাপাশি বন্ধু ও মিত্র দেশগুলোর কাছে জ্বালানি বিক্রির সক্ষমতা রাখা।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে এই অঞ্চলে জ্বালানির একটি ‘নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ’ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, যা ‘কোনো সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।

বারগাম খনিজ সম্পদের নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন। 

বিশেষ করে শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দেন তিনি। 

লিথিয়াম ও কোবাল্টের মতো খনিজ উপাদানগুলো বৈদ্যুতিক গাড়ি, সোলার প্যানেল ও স্মার্টফোন থেকে শুরু করে জেট ইঞ্জিন ও গাইডেড মিসাইল তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই এই ফোরামের আয়োজন করা হয়েছিল। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা ও মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো অংশ নিচ্ছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডসহ সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি ও খনিজ খাতে অন্তত ৩ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি ঘোষণা করতে পারে।

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি জাপান তাদের মোট তেলের ৯৫ শতাংশই আনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। 

দেশটি উদীয়মান বাজারগুলোতে ‘কৌশলগত অবকাঠামো’ প্রকল্পে যৌথ অর্থায়নের লক্ষ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। 

এছাড়া ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক নীতি থেকে বাঁচতে ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগেও সম্মত হয়েছে টোকিও।

শনিবার জাপানের হিটাচি ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান জিই ভারনোভা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক চুল্লি (এসএমআর) তৈরির সুযোগ নিয়ে কাজ করতে একমত হয়েছে। এছাড়া পারমাণবিক খাতে অংশীদারিত্ব করছে হোলটেক ও মিতসুবিশি ইলেকট্রিক। মার্কিন কোম্পানি ভেঞ্চার গ্লোবাল দক্ষিণ কোরিয়ার হানওয়া গ্রুপের একটি অঙ্গ-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বার্ষিক ১৫ লাখ টন এলএনজি সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি করেছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাই যখন তেলের দাম বাড়ে, তখন আমরা অনেক টাকা আয় করি।’

ট্রাম্প শুরু থেকেই তেল শিল্পের কট্টর সমর্থক এবং ‘ড্রিল, বেবি, ড্রিল’ স্লোগানে তেল ও গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিতে জোর দিয়ে আসছেন।