শিরোনাম

ঢাকা, ১৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : কিউবার কমিউনিস্ট সরকার গতকাল শুক্রবার ভ্যাটিকানের মধ্যস্থতায় বন্দিদের মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে এবং নিশ্চিত করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে।
এই পদক্ষেপ কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভ্যাটিকান কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসিয়া ১১জে জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত করতে পেরেছে যে ২০২১ সালের ১১ জুলাইয়ে সরকার বিরোধী বড় প্রতিবাদে অংশ নেওয়ায় কারাবন্দি থাকা দুই জনকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কিউবা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, তারা হোলি সি’র সঙ্গে আলোচনার পর ৫১ জন কারাবন্দিকে মুক্তি দেবে। হালি সি এর আগে হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতা করেছেন।
হাভানা এই কারামুক্তি কার্যক্রমকে ভ্যাটিকানের প্রতি ‘সদিচ্ছার ইঙ্গিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এএফপি’র এক সাংবাদিক বলেছেন, ১৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ২৯ বছর বয়সী অ্যাডেল লেভা ডিয়াজ এবং ১৪ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৩৩ বছর বয়সী রোনাল্ড গার্সিয়া সানচেজের বাড়ি পৌঁছানোর সাক্ষী ছিলেন।
উভয়েই হাভানার শহরতলি অ্যারোইও নারাঞ্জো এলাকায় বসবাস করেন।
মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসিয়া ১১জে-এর তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, ২০২১ সালের প্রতিবাদের পর থেকে কিউবার কারাগারে অন্তত ৭৬০ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন।
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এসেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে উৎখাত এবং ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির পর কিউবা হবে তার ‘পরবর্তী’ লক্ষ্য।
হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, ট্রাম্প মনে করেন কিউবা পতনের দিকে এগোচ্ছে এবং সরকারের সঙ্গে চুক্তি করা খুব সহজ হবে।
ট্রাম্প কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেছেন। ফলে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ‘অসাধারণ হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
জাতীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত এক সভায় কিউবার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট বলেন, হাভানা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় নিযুক্ত, তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।