শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’-কে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ভাসছে ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর রেসিফে। শহর টি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চলচ্চিত্রের শুটিং লোকেশন দেখতে সেখানে ভিড় করছেন পর্যটকেরা। একই সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী একটি শার্টের বিক্রিও হু হু করে বাড়ছে।
ব্রাজিলের রেসিফে শহর থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
চলচ্চিত্র ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’- ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে বহু পুরস্কার জিতেছে। এবার এটি অস্কারের চারটি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে- সেরা চলচ্চিত্র, সেরা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র, সেরা অভিনেতা এবং সেরা কাস্টিং। তাই অস্কারের আগে ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’ সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ব্রাজিলের রেসিফে।
চলচিত্রটিতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় ব্রাজিলিয়ান অভিনেতা ওয়াগনার মৌরা। রহস্য, অন্ধকার রসিকতা, ম্যাজিক্যাল রিয়ালিজম এবং পপ সংস্কৃতির মিশেলে নির্মিত ছবিটির গল্পে দেখা যায়, ১৯৬৪ থেকে ১৯৮৫ সালের সামরিক শাসনের রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এক বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপককে ভাড়াটে খুনিরা অনুসরণ করছে।
ওয়াগনার মৌরার সম্পূর্ণ নাম ওয়াগনার ম্যানিকোবা দে মৌরা। এই ব্রাজিলিয়ান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এ পর্যন্ত গোল্ডেন গ্লোব, কান চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং পাঁচটি ব্রাজিলিয়ান একাডেমি চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস, অ্যানি অ্যাওয়ার্ডস ও ক্রিটিকস চয়েস অ্যাওয়ার্ডসের জন্য মনোনয়নও পেয়েছেন।
এই চলচ্চিত্র ব্রাজিলের তুলনামূলকভাবে প্রান্তিক উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বিরলভাবে আলোচনায় এনেছে। এতে অঞ্চলটির লোকজ ঐতিহ্যের আভাস যেমন রয়েছে, তেমনি এটিকে আধুনিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডল হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি এতে রেসিফের কম পরিচিত ব্রুটালিস্ট স্থাপত্যও দেখানো হয়েছে।
ইতিহাসবিদ দুরভাল মুনিজ ডি আলবুকার্ক জুনিয়র বলেছেন যে ছবিটি টেলিভিশনে প্রায়শই দেখানো উত্তর-পূর্বের একটি ‘প্রথাগত’ চিত্রকে ভেঙে দেয়, যা একটি ‘ব্যঙ্গচিত্রিত, নিম্নমানের, পশ্চাদপদ এবং ঐতিহ্যবাহী’ স্থান হিসাবে দেখা যায়।
চলচ্চিত্রটির পরিচালক ক্লেবার মেন্ডোনকা ফিলহো, রেসিফেরই বাসিন্দা। তিনি এএফপি’কে বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে অডিওভিজ্যুয়াল প্রযোজনা সবসময়ই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রিও ডি জেনিরো ও সাও পাওলোয় কেন্দ্রিক ছিল। এখন স্পটলাইট ও মাইক্রোফোন অন্যত্র চলে যাওয়া সত্যিই দারুণ বিষয়।’
ইতিহাসবিদ দুরভাল মুনিজ ডি আলবুকার্ক জুনিয়র বলেন, চলচ্চিত্রটি টেলিভিশনে প্রায়ই দেখানো উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পর্কে প্রচলিত ‘স্টেরিওটাইপ’ ধারণা ভেঙে দিয়েছে। সেখানে অঞ্চলটিকে প্রায়ই ‘কার্টুনধর্মী, নিকৃষ্ট, পিছিয়ে পড়া ও প্রথাগত’ হিসেবে দেখানো হতো।
ট্যুর গাইড রডারিক জর্দাও বলেন, ‘এই চলচ্চিত্র রেসিফেকে এমনভাবে আলোচনায় এনেছে, যা কোনো সরকারি প্রচারাভিযানেও সম্ভব হতো না।’
চলচ্চিত্রটি দুটি গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ডস জয়ের পরই জনপ্রিয়তা পায়। প্রায় ১০ দিন পর অস্কার মনোনয়ন ঘোষণার পর ট্যুরের চাহিদা আরও বেড়ে যায়।
তিনি জানান, পের্নাম্বুকে রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।
২২ বছর বয়সী অভিনেতা টমাস সান্তা রোজা ছবিটি দেখার পর রিওডিজেনেরিও থেকে রেসিফে ভ্রমণে আসেন।
তিনি বলেন, ‘সাধারণত উল্টোটা ঘটে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিল্পীদের কাজের জন্য বা সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা নিতে দক্ষিণ-পূর্বে যেতে হয়। এখন সেই ধারা উল্টে যাওয়া দারুণ রোমাঞ্চকর।’
ট্যুরের একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হলো প্রায় ২০০ বছর পুরোনো স্কুল জিনাসিও পের্নাম্বুকানো। চলচ্চিত্রে এটিকে একটি সিভিল রেজিস্ট্রি অফিস হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আন্তনিও রোজা বলেন, চলচ্চিত্রটি ‘বিশাল প্রভাব’ ফেলেছে।