শিরোনাম

ঢাকা, ৬ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জাপান পারকিনসন রোগ ও গুরুতর হৃদযন্ত্র বিকলতায় যুগান্তকারী স্টেম সেল থেরাপির অনুমোদন দিয়েছে। আজ (শুক্রবার) ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও বলা হয়েছে, এই যুগান্তকারী চিকিৎসা পদ্ধতিটি আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রোগীদের কাছে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
দেশটির ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো ফার্মা জানিয়েছে, পার্কিনসন রোগের চিকিৎসায় ‘অ্যামচেপ্রি’ উৎপাদন ও বাজারজাত করার অনুমোদন মিলেছে। এই পদ্ধতিতে রোগীর মস্তিষ্কে স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করা হয়।
‘অ্যামচেপ্রি’ মূলত একটি স্টেম-সেলভিত্তিক চিকিৎসা।
জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মেডিকেল স্টার্টআপ কিওরিপসের তৈরি হৃদপেশির শীট ‘রিহার্ট’ করারও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি নতুন রক্তনালী গঠনে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জাপানের গণমাধ্যম বলছে, এই চিকিৎসা আগামী গ্রীষ্মের মধ্যেই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি হবে বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত চিকিৎসা পণ্য, যেখানে আইপিএস সেল ব্যবহার করা হয়েছে।
জাপানি বিজ্ঞানী শিনিয়া ইয়ামানাকা ২০১২ সালে আইপিএস সেল নিয়ে গবেষণার জন্য নোবেল পুরস্কার পান। এ সেল শরীরের যেকোনো কোষে রূপ নিতে সক্ষম।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আশা করি এটি কেবল জাপানে নয়, সারা বিশ্বের রোগীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্রুত সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব যাতে এটি প্রতিটি রোগীর কাছে পৌঁছায়।’
সুমিতোমো ফার্মা এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘অ্যামচেপ্রি’-এর উৎপাদন ও বিপণনের জন্য ‘শর্তসাপেক্ষ এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অনুমোদন’ পেয়েছে। এই বিশেষ অনুমোদন ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে নতুন চিকিৎসা পণ্যগুলো যত দ্রুত সম্ভব রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
জাপানের দৈনিক পত্রিকা আসাহি শিম্বুন জানায়, এটি এক ধরনের ‘অস্থায়ী লাইসেন্স’। কারণ সাধারণ ওষুধের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তুলনায় কম সংখ্যক রোগীর তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসাটির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাই করে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, চিকিৎসা পদ্ধতিটি নিরাপদ এবং উপসর্গ কমাতে সফল।
এই গবেষণায় ৫০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী মোট সাতজন পারকিনসন রোগী অংশ নেন। তাদের প্রত্যেকের মস্তিষ্কের দুই পাশে মোট ৫০ লাখ বা এক কোটি কোষ প্রতিস্থাপন করা হয়।
সুস্থ দাতাদের কাছ থেকে নেওয়া আইপিএস কোষ বা সেল থেকে তৈরি করা হয় ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষের পূর্বধাপ। পারকিনসন রোগীদের শরীরে সাধারণত এই ধরনের ডোপামিন উৎপাদনকারী কোষ নষ্ট হয়ে যায়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, রোগীদের দু’বছর ধরে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং এসময় বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এছাড়া সাতজনের মধ্যে চারজন রোগীর উপসর্গে উন্নতির লক্ষণও দেখা গেছে।
পারকিনসন একটি দীর্ঘস্থায়ী স্নায়বিক রোগ, যা শরীরের নড়াচড়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মস্তিষ্কের কিছু স্নায়ু কোষ (নিউরন) ধীরে ধীরে ভেঙে যাওয়ায় এটি ঘটে। এতে সাধারণত কাঁপুনি ও চলাফেরায় সমস্যা দেখা দেয়।
পারকিনসন ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় এক কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত।