শিরোনাম

ঢাকা, ৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ইরান থেকে ছোঁড়া এবং ইরাক ও সিরিয়া হয়ে তুরস্কের আকাশসীমার দিকে অগ্রসরমান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়েছে ন্যাটো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বুধবার তুর্কি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইস্তাম্বুল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা ন্যাটোর আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে একে মোকাবিলা ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।’
মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর কথা জানায়নি। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান প্রতিশোধ হিসেবে পুরো অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন তুর্কি কর্মকর্তা এএফপি’কে জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘গ্রিক সাইপ্রাসের একটি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয়, কিন্তু এটি পথভ্রষ্ট হয়ে পড়ে।’
কর্মকর্তারা জানান, সিরিয়া সীমান্তের কাছে দক্ষিণ তুরস্কের দর্তেওল জেলায় কিছু ধ্বংসাবশেষ পড়েছে। এগুলো আকাশে ‘হুমকি’ নিষ্ক্রিয় করতে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের অংশ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনালাপে বলেছেন যে ‘তুরস্কের সার্বভৌম ভূখণ্ডে হামলা মেনে নেওয়া যায় না’ এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেন।
ন্যাটোও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ‘ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে হামলা অব্যাহত রাখায় তুরস্কসহ সকল মিত্রদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে ন্যাটো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে ‘মারাত্মক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে এর ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে।
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আঙ্কারা ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এই ঘটনায় তাদের ‘প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ’ জানিয়েছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন যেকোনো পদক্ষেপ এড়িয়ে চলা উচিত।
ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ফিদানকে বলেছেন যে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলাগুলো মূলত সেই ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে যেখান থেকে ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।
তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর অন্যান্য মিত্রদের ব্যবহৃত বেশ কিছু সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
সন্ধ্যায় দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ‘প্রয়োজনীয় সব সতর্কতা অবলম্বন করছে’ এবং ‘অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্পষ্ট ভাষায় সতর্কবার্তা দিচ্ছে’।
তিনি বলেন, ‘জাতি হিসেবে আমরা যদি শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে চাই, তবে আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা ক্রমাগত বাড়াতে হবে। এই কঠিন সময়ে আমরা আমাদের সীমান্ত ও আকাশসীমার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো কিছুই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি না।’
ন্যাটো সদস্য তুরস্কের সঙ্গে ইরানের ৫০০ কিলোমিটার (৩১৫ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।
এরদোয়ান ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলাকে ‘অবৈধ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান উপসাগরীয় দেশগুলো ও এর বাইরে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার সমালোচনা করে একে ‘ভুল কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন।
ফিদান বলেন, ‘এর পেছনের কৌশলটি এমন মনে হচ্ছে যে- ‘আমি যদি ডুবে যাই, তবে পুরো অঞ্চলকে সঙ্গে নিয়েই ডুবব।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ এবং ন্যাটোর মাধ্যমে তা ধ্বংস হওয়ার ঘটনাটি আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও ইরান উদ্দেশ্যমূলকভাবে তুরস্কে হামলা করতে চেয়েছিল কি না, তার স্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।
ঝুঁকি-বিশ্লেষক সংস্থা ভেরিস্ক ম্যাপলক্রফট-এর হামিশ কিন্নয়ার বলেন, ‘তুরস্ক হামলায় জড়াতে চাইবে না, কিন্তু ইরান যদি তুরস্কের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে, তবে আঙ্কারা সরাসরি পাল্টা আঘাতের কথা বিবেচনা করবে।’
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘আমাদের ভূখণ্ড এবং আকাশসীমা রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ দৃঢ়ভাবে এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই নেওয়া হবে। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো শত্রুতামূলক আচরণের জবাব দেওয়ার অধিকার আমরা রাখি।’