শিরোনাম

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): আলোচনার মধ্যে ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘চরম বোকামির সিদ্ধান্ত’ নিয়েছে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনি।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, মঙ্গলবার জাতিসংঘের সংবাদদাতাদের তিনি বলেন, ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ আমাদের পছন্দ ছিল না। যুদ্ধ আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগ্রাসনের মুখে ইরান সংযম দেখাবে, এমন প্রত্যাশা কেউ করতে পারে না। এই আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আত্মরক্ষা চালিয়ে যাব।’
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়। ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা সে সময় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছিল। বাহরেইনি বলেন, আলোচনায় সবাই আশাবাদী ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ভিয়েনায় আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছিল।
কিন্তু তার অভিযোগ, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে কূটনীতি ভেঙে ইরানে হামলা চালাতে রাজি করান। শনিবার থেকে ওই হামলা শুরু হয়।
বাহরেইনি বলেন, ‘এটি ছিল সম্পূর্ণ বোকামির সিদ্ধান্ত। ভবিষ্যতে তারা বুঝবে কতটা বোকামি ছিল এটি। ইরান দৃঢ়ভাবে এই যুদ্ধের পরিস্থিতি ও পরিণতি নির্ধারণ করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সব প্রতিবেশী এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশ্বাসঘাতকতায় হতাশ। সবাই কূটনীতির জন্য কাজ করছিল, বিশেষ করে ওমান। যুক্তরাষ্ট্র সবার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
‘এটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়’
যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি থাকা কয়েকটি দেশে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে। তবে বাহরেইনি বলেন, ‘আমরা যা করছি তা প্রতিশোধ নয়, এটি আত্মরক্ষার অংশ।’
তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ করছি, যাতে বোঝাতে পারি এটি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়।
কিন্তু তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো আমাদের বিরুদ্ধে সক্রিয়—এটি উপেক্ষা করা যায় না। কোনোভাবেই আমরা সেসব ঘাঁটি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে দেব না।’
তিনি দাবি করেন, ইরানের অভিযান ‘কেবল’ মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ এবং বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি না করতে সামরিক বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানি নেতৃত্ব আলোচনা করতে চায়। তবে বাহরেইনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো যোগাযোগ হয়নি।