বাসস
  ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:২০
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯:২২

বিদ্রোহ-পরবর্তী নির্বাচনে নতুন প্রত্যাশা নেপালের জেন জি’র

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): নেপালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ছয় মাস পর ২৩ বছর বয়সী অমৃতা বান বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন। তার আশা, নতুন সরকার আন্দোলনের দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে।

গত সেপ্টেম্বরের সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন নিহত, পার্লামেন্টে অগ্নিসংযোগ এবং সরকার পতনের ঘটনা এখনও তাকে তাড়া করে ফেরে।

কাঠমান্ডুতে তিনি এএফপিকে বলেন, ‘আবার ঠিকমতো ঘুমাতে আমার কয়েক মাস লেগেছে। চোখ বন্ধ করলেই গুলির শব্দ শুনতাম, যেন সবকিছু আবার ঘটছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সাময়িক নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও, অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতি ক্ষোভ থেকেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রথম দিনেই নিরাপত্তা বাহিনীর দমনে অন্তত ১৯ জন নিহত হন।

বান বলেন, ‘আমি যেসব প্রার্থীকে সমর্থন করছি, তারা আন্দোলনের চেতনা এগিয়ে নেবেন বলেই বিশ্বাস করি।’ তিনি তরুণদের ভোটদানে উৎসাহিত করতেও কাজ করেছেন।

এই সংসদ নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় ৮ লাখ প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন।

‘রাজনৈতিক জাগরণ’

তরুণ নেপালিরাই মূলত আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়, যারা ‘জেন জি’ ব্যানারে একত্রিত হয়। তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক দল না থাকলেও, বিশেষ করে অনলাইনে তারা উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখছে।

২৪ বছর বয়সী যুবক ইউজন রাজভান্ডারি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেই, কিন্তু বাইরে থেকে আমাদের কণ্ঠ জোরালো থাকবে। রাজপথও আমাদের সঙ্গেই আছে। আন্দোলন এখনও চলছে।’

অনেক সাবেক আন্দোলনকারী পরিবর্তনের ডাক দেওয়া নতুন প্রার্থীদের সমর্থন করছেন।

২২ বছর বয়সী আস্থা বাসনেত বলেন, ‘তারা জিতলে আমাদের ভুলতে পারবে না।’ তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে একটি ‘রাজনৈতিক জাগরণ’ দেখা যাচ্ছে এবং তারা দল, নীতি ও প্রার্থী নিয়ে খুব কৌতূহলী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে উত্তেজনা আছে, সঙ্গে দায়িত্ববোধও।”

তবে কিছু কর্মী জনপ্রিয়তাকে যোগ্যতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

২১ বছর বয়সী রিয়াব বানিয়া বলেন, ‘যোগ্যতার বদলে জনপ্রিয়তাকে বেছে নিলে গণতন্ত্রের জন্য তা বিপজ্জনক হতে পারে। এখন যাদের কণ্ঠ জোরালো, তারাই জনপ্রিয় হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সমালোচনামূলক হতে হবে, যারা আমাদের ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করবে, তাদেরই সমর্থন করতে হবে।’

‘পুরোনো নেতাদের প্রতি হতাশা’

আন্দোলনের অনেক সংগঠক এখনও মূলধারার রাজনীতির বাইরে, ফলে তাদের দাবিগুলো কতটা প্রতিনিধিত্ব পাবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

২৮ বছর বয়সী জনক পোখরেল বলেন, ‘আমরা খারাপ শাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কিন্তু দল ও নেতাদের এসব সমস্যা ও পুরোনো জটিলতার সমাধানে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ থাকতে হবে।”

২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদের (নিম্নকক্ষ) মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি ভোটে ৩,৪০০-এর বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাকি ১১০টি আসন দলীয় তালিকার মাধ্যমে পূরণ হবে।

প্রার্থীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে, যাদের কয়েকজন আন্দোলনের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন।

অমৃতা বান বলেন, ‘আমরা শুধু নতুন মুখ চাই না, আমরা সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই। সমাজ পুরোনো নেতাদের নিয়ে হতাশ ছিল। এটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিগুলোর জন্য এক পরীক্ষা।’