বাসস
  ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৫

ইরানে স্কুলে হামলা : যা জানা গেছে

ঢাকা, ৪ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে বিমান হামলায় নিহতদের দাফন মঙ্গলবার সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান এই হামলার জন্য ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।

প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কেউই এই হামলার পেছনে থাকার কথা স্বীকার করেনি। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার জানিয়েছেন যে, পেন্টাগন বিষয়টি তদন্ত করছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষের মতে, মিনাব শহরের এই বিস্ফোরণটি গত শনিবার যুদ্ধের প্রথম দিনেই ঘটে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, এতে ১৫০ জন নিহত হয়েছে, যা এই সংঘাতে বেসামরিক প্রাণহানির একক বৃহত্তম ঘটনাগুলোর একটি। 

তবে, এএফপি স্বাধীনভাবে এই নিহতের সংখ্যা বা ঘটনার পরিস্থিতি যাচাই করতে পারেনি। তেহরানের বাইরে সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়।

একটি পার্কিং এলাকা থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভবনটি পেন্সিল, শিশু এবং আপেলের ছবি আঁকা দেয়ালচিত্র দিয়ে সাজানো ছিল। এএফপি ভিডিওর অবস্থান শনাক্ত করে নিশ্চিত করেছে যে, এটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি ভবন, যা স্কুল বলে মনে হচ্ছে। তবে ভবনটি আসলেই স্কুল কিনা তা এএফপি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এএফপি নিশ্চিত করেছে যে, ভবনটি শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)’র নিয়ন্ত্রিত দুটি স্থাপনার খুব কাছে অবস্থিত। 

আইআরজিসি নৌবাহিনীর মেডিকেল কমান্ডের তত্ত্বাবধানে থাকা ‘শহীদ আবসালান ক্লিনিক’ ভবনটি থেকে মাত্র ২৩৮ মিটার (৭৮০ ফুট) দূরে অবস্থিত। 

অন্যদিকে, ‘সৈয়দ আল-শোহাদা আইআরজিসি সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স’ ভবনটি ২৮৬ মিটার দূরে অবস্থিত। মিনাব শহরটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং তেল-গ্যাস পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালীর কাছে অবস্থিত।

ইরান জানায়, কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালীর কাছে ওই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই ঘটনাকে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মঙ্গলবার অন্তত ১৬৫ জনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে শিক্ষার্থীও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ছবিতে দেখা গেছে, মিনাব শহরে শোকার্ত মানুষের ভিড় সাদা কাফনে মোড়ানো লাশের ওপর কাঁদছেন। প্রকাশিত অন্যান্য ছবিতে কফিনের ওপর ইরানের জাতীয় পতাকা এবং কোনো কোনোটিতে শিশুদের ছবি দেখা গেছে। 

ফার্সি ভাষায় লেখা ক্যাপশনসহ একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক মানুষ কফিন ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন, যার শিরোনাম: ‘মিনাবের নিহত শিশুদের জন্য দোয়া।’

অন্য একটি আকাশচিত্র বা এরিয়াল ভিউতে দেখা গেছে, অন্তত ১০০টি গণকবর খোঁড়া হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলে হামলা চালায় না। আমাদের লক্ষ্য থাকে কেবল ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো।’

তিনি জানান, পেন্টাগন এই অভিযোগটি খতিয়ে দেখছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী রোববার জানায়, স্কুলে কোনো মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার বিষয়ে তারা অবগত নয়। 
সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অভিযান পরিচালনা করছি। এই মুহূর্তে সেখানে ইসরাইলি বা আমেরিকান হামলার বিষয়ে আমরা অবগত নই।’

মানবাধিকার সংস্থা

নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাউ’ জানায়, তারা নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ করছে। 
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ঘটনার সময় ‘শাজারে তাইয়্যেবা’ স্কুলে মর্নিং শিফটের ক্লাস চলছিল এবং সেখানে প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী ছিল। 

সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, হামলার মূল লক্ষ্য সম্ভবত পাশের আইআরজিসি স্থাপনাগুলো ছিল- তবে এই দাবিটিও এএফপি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।