শিরোনাম

ঢাকা, ৩ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : আজ মঙ্গলবার কাবুলে এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা একাধিক বিস্ফোরণ এবং গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এ সময় আফগান ও পাকিস্তানি সেনারা তাদের সীমান্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আফগান রাজধানীতে বিস্ফোরণের পাশাপাশি শহর জুড়ে বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র এবং গুলির শব্দ শোনা গেছে এবং আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ‘পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে এখনও লড়াই চলছে।’
কাবুল এবং সীমান্তের মাঝখানে অবস্থিত জালালাবাদ শহরে একজন এএফপি সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি বিস্ফোরণ এবং বিভিন্ন অস্ত্রের গুলিবর্ষণের শব্দ শুনেছেন।
জালালাবাদ থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দূরে নিকটতম সীমান্ত ক্রসিংয়ে, তোরখামের বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছেন যে কয়েকদিন ধরে লড়াই চলছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকে পশ্চিম সীমান্তে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষ চালিয়ে আসছে।
এর পেছনের কারণ হলো, পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তান সীমান্তে সামরিক অভিযান শুরু করে।
অর্থাৎ, সীমান্তে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এবং লড়াই এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত রয়েছে।
আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত বলেন, সর্বশেষ হতাহতের মধ্যে তিনজন শিশুও রয়েছে।
সোমবার কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনা সীমান্ত এলাকায় চলমান উত্তেজনা এবং সংঘাতের মানবিক প্রভাবকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
আফগান সরকার জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে কমপক্ষে ৩৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এই বিষয়ে পাকিস্তান কোনও মন্তব্য করেনি।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক দাতব্য সংস্থা জানিয়েছে যে সংঘাতে শিশু হতাহতের খবরে তারা ‘উদ্বিগ্ন’ এবং সকল পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম অনুশীলন, বেসামরিক জীবন রক্ষা’ করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসলামাবাদ জানিয়েছে যে ফেব্রুয়ারিতে যে বিমান হামলার ফলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল তা জঙ্গিদের লক্ষ্য করেই করা হয়েছিল।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে যে আফগানিস্তান পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তারা বলছে যে আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে হামলার কোনও সমর্থন দেয়নি।
সীমান্ত যুদ্ধে আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশে আঘাত হেনেছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ কান্দাহারে সর্বশেষ সংঘর্ষ চলছে, পাশাপাশি প্রাদেশিক তথ্য বিভাগের মতে, প্রতিবেশী জাবুলেও সংঘর্ষ চলছে ।
গত অক্টোবরের লড়াইয়ে উভয় পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার পর সাম্প্রতিক দিনের সহিংসতা সবচেয়ে ভয়াবহ, এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে স্থল সীমান্ত মূলত বন্ধ রয়েছে।