শিরোনাম

ঢাকা, ২ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ইউরোপ মহাদেশকে সুরক্ষা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ফ্রান্স কীভাবে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে— সে বিষয়ে সোমবার বিস্তারিত তুলে ধরবে ফ্রান্স।
রাশিয়া ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে ও যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে— এমন প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা আসে।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ফ্রান্সের ইল লঁগ পরমাণু সাবমেরিন ঘাঁটি থেকে ভাষণ দেবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পর তিনি এই ভাষণটি দিতে যাচ্ছেন।
ম্যাখোঁর টিমের এক সদস্য বলেন, ‘আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি, তা প্রমাণ করে যে আগামীর বিশ্বে শক্তি ও স্বাধীনতা— এই দুটি হবে হুমকির বিস্তার মোকাবিলার অপরিহার্য উপাদান।’
রাশিয়ার ইউক্রেনে যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়ানোর এবং ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে ইউরোপে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে মাখোঁ ফ্রান্সের পরমাণু নীতিমালা হালনাগাদ করতে যাচ্ছেন।
সোমবার গ্রিনীচ মান সময় ১৪১৫ জিএমটি-তে ভাষণটি দেওয়ার কথা।
একটি সূত্র জানায়, ‘নিশ্চিতভাবেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও অগ্রগতি থাকবে।’
শীতল যুদ্ধকাল ও পরবর্তী দশকগুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু প্রতিরোধের ওপর নির্ভর করেছে। এখন তারা নিজস্ব পরমাণু সক্ষমতা জোরদার করা নিয়ে আলোচনা বাড়াচ্ছে।
কীভাবে ফ্রান্স তার পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহার করে মহাদেশকে সুরক্ষা দিতে পারে, সে ব্যাপারে জার্মানি ও পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে প্যারিস।
গত বছর মাখোঁ বলেন, পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত ফরাসি বিমান অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছেন।
ফেব্রুয়ারিতে তিনি জানান, ‘বিশেষ সহযোগিতা, যৌথ মহড়া ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থ’ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে— এমন একটি নীতিমালা বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে ফ্রান্সের। আনুমানিক ২৯০টি ওয়ারহেড আছে তাদের হাতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা ব্রিটেন ইউরোপের আরেক পরমাণু শক্তিধর দেশ।
অন্যদিকে বিশ্বের প্রধান দুই পরমাণু শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। এদের প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে হাজার হাজার ওয়ারহেড।
ন্যাটো জোটের অধীনে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে— এমন আশ্বাস দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি।
মাখোঁ’র সাবেক প্রধান সামরিক উপদেষ্টা বার্নার্ড রোগেল এএফপিকে বলেন, ‘ফরাসি ও ব্রিটিশ প্রতিরোধ কীভাবে আরও দৃঢ় ইউরোপীয় প্রতিরক্ষার সঙ্গে মানিয়ে যাবে, তা নিয়ে আমাদের একসঙ্গে ভাবতে হবে।’
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি রাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা কীভাবে কার্যকর হবে— সেটি ভিন্ন প্রশ্ন।