বাসস
  ০১ মার্চ ২০২৬, ১৪:০১

ইরাকে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা, যুক্তরাষ্ট্রকে কাতায়েব হিজবুল্লাহর পাল্টা হুঁশিয়ারি

ঢাকা, ১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : ইরাকের একটি সামরিক ঘাঁটিতে শনিবার বিমান হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করছিল। এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি। বাগদাদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযান শুরুর পর এই ঘটনা ঘটল। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইরাক শুরু থেকেই এই যুদ্ধে জড়াতে না চাওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল। তা সত্ত্বেও দেশটি শেষ পর্যন্ত সংঘাতের আঁচ থেকে রেহাই পায়নি। পরিস্থিতির কারণে ইরাক তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিলেও বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র উড়তে দেখা গেছে।

কর্তৃপক্ষ এবং ইরানপন্থি গোষ্ঠীটি জানায়, শনিবার দক্ষিণ ইরাকের জুর্ফ আল-নাসর ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানো হয়। সকালে চালানো এই হামলায় কাতায়েব হিজবুল্লাহর দুই সদস্য নিহত হন। জুর্ফ আল-সাখর নামেও পরিচিত এই ঘাঁটিটি ‘হাশদ আল-শাবি’ বা পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের (পিএমএফ) নিয়ন্ত্রণাধীন। একসময়ের আধাসামরিক এই বাহিনীটি এখন ইরাকি নিয়মিত সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত। তবে এই ঘাঁটির বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকাভুক্ত গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর সদস্যরা।

ইরাকি কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী না করলেও কাতায়েব হিজবুল্লাহ একে ‘মার্কিন আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা জানিয়েছে, এর প্রতিশোধ নিতে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানো হবে।

এর পরপরই কুর্দি নিরাপত্তা বাহিনী জানায়, স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিলের আকাশে বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেট ও সেনাদের অবস্থান রয়েছে। এএফপি-র সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, সারাদিনই এরবিলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

শনিবার রাতে ইরাকি সরকারের নিরাপত্তা মিডিয়া সেল জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একটি ঘাঁটি ও অন্যান্য সামরিক অবস্থানের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় নয়টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে এসব ড্রোন হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়।
 
ইরাকের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আনাগোনার খবরে মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের চলাফেরা সীমিত করার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও অন্যান্য ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ইরাকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স’ নামে একটি জোট গঠন করেছে। 

এই জোট শনিবার জানিয়েছে, তারা ইরাক ও এই অঞ্চলের ‘শত্রু ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে ডজনে ডজনে ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। কাতায়েব হিজবুল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রকে একটি ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারিও দিয়েছে।

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনে কয়েকশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। 
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান বলেছেন, বাগদাদ ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ওপর এই অন্যায্য হামলার নিন্দা জানায়’। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরাকের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড যেন ইরানের বিরুদ্ধে হামলার করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

একই সাথে নুমান স্পষ্টভাবে জানান, ইরাক তার ভূমি বা জলসীমা ব্যবহার করে দেশটিকে এই যুদ্ধের মধ্যে টেনে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে। 

ইরাকি নিউজ এজেন্সি (আইএনএ) একটি জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা ইরাককে এই চলমান যুদ্ধের বাইরে রাখতে চায়।