বাসস
  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪১

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ইরান হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল শনিবার ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। রাজধানী তেহরানে বিস্ফোরণের পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়।

নিম্নে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

ইরানজুড়ে হামলা

ইসরাইলের দাবি, তারা ‘প্রতিরোধমূলক’ হামলা চালিয়েছে। তেহরানের আকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এক ভিডিও বার্তায় ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, লক্ষ্য হলো ‘তাৎক্ষণিক হুমকি নির্মূল করা।’

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, তেহরানে জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তারা যেখানে সমবেত হয়েছিলেন, এমন একাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। পশ্চিম ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানায়, হামলার লক্ষ্যবস্তুদের মধ্যে ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

দক্ষিণ ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে হামলায় অন্তত ৫১ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। প্রাদেশিক এক কর্মকর্তা মৃত্যুর জন্য ইসরাইলি হামলাকে দায়ী করেছেন।

দক্ষিণ ইরাকে ইরানপন্থী একটি গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে বোমা হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছে।

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্টা হামলা

পাল্টা জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের ঘোষণা দেয়। তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকেও লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করে।

ইসরাইলের জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড আদোম জানায়, উত্তরাঞ্চলে বিস্ফোরণে আহত এক ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ‘যুদ্ধ এড়াতে সবকিছু করেছে’, তবে এখন ‘ইরানি জাতিকে রক্ষায় আগের চেয়ে আরও প্রস্তুত।’

উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্ফোরণ

সংযুক্ত আরব আমিরাত দ্বিতীয় দফা ইরানি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে। প্রথম দফায় রাজধানী আবুধাবিতে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়।

দুবাইয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, বাহরাইনের মানামা ও কাতারের দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার জানিয়েছে, তারা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। কুয়েতও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে হামলা প্রতিহত করে।

জর্ডান দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জরুরি ভিত্তিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বানের দাবি জানিয়েছেন।

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি তেহরান-ওয়াশিংটন আলোচনায় মধ্যস্থতা করছিলেন, সংঘাতের বিস্তারে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে সমর্থন জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ বলে উল্লেখ করে বেসামরিকদের সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।

রাশিয়া হামলাকে ‘বিপজ্জনক অভিযান’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তান ‘অযৌক্তিক হামলা’র নিন্দা করে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।

ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস তাদের সমর্থক ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আকাশসীমা বন্ধ, ফ্লাইট স্থগিত

কাতার সাময়িকভাবে আকাশসীমা বন্ধ করেছে এবং কাতার এয়ারওয়েজ দোহা থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।

ইরাক পুরো আকাশসীমা বন্ধ করেছে, সিরিয়া ইসরায়েল সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের আকাশসীমা ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রেখেছে।

রাশিয়া ইরান ও ইসরাইলে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এয়ার ফ্রান্স, লুফথানসা, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়াসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত বা বাতিল করেছে।