শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলাকে ‘সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন’ আখ্যা দিয়ে তা আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার ওয়াপনস (আইক্যান)।
জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মেলিসা পার্কে শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই হামলাগুলো সম্পূর্ণ দায়িত্বহীন এবং এগুলো আরও উত্তেজনা উসকে দেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ও ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ায়।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সামরিক পদক্ষেপ কোনো কার্যকর বা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।’
সপ্তাহব্যাপী উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক সমাবেশের পর এ হামলা চালানো হয়। এর জবাবে তেহরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ ও ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।
জেনেভাভিত্তিক আইক্যান ২০১৭ সালে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়। চুক্তিটি ২০২১ সালে কার্যকর হয়।
আইক্যান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র দুই দিন পর এ হামলা আঞ্চলিক বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনায় ইরানের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশের পর শনিবারের হামলা ঘটে।
পার্কে বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার ও ব্যবহারের ঝুঁকি বন্ধের একমাত্র সমাধান হলো—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রসহ সব দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে যোগ দেওয়া।’
আইক্যান আরও জানায়, টিপিএনডব্লিউ ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর মতো আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো যাচাইযোগ্য নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্রের উদ্দেশ্যে পারমাণবিক উপাদান অপব্যবহার ঠেকানোর বিধান রেখেছে।
পার্কে বলেন, ‘টিপিএনডব্লিউ-ই পারমাণবিক অস্ত্র কখনো ব্যবহার না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে এবং আরও দেশকে এ অস্ত্র তৈরিতে উৎসাহিত হওয়ার প্রণোদনা দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর পথ।’