শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী সপ্তাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কারিগরি’ আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ শুক্রবার এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
শুক্রবার এএফপি’র হাতে আসা সংস্থার একটি গোপনীয় প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
ভিয়েনা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
আইএইএ’র বোর্ড অব গভর্নরসের আগামী সপ্তাহের বৈঠকে এই প্রতিবেদনগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এমন এক সংকটময় সময়ে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং একইসঙ্গে তারা ইরানে বড় ধরনের হামলার হুমকি দিচ্ছে।
আইএইএ নিশ্চিত করে জানিয়েছে, ‘২০২৬ সালের ২ মার্চ থেকে ভিয়েনায় এই কারিগরি আলোচনা শুরু হবে।’
সংস্থাটি ইরানকে ‘গঠনমূলকভাবে’ সহযোগিতা করার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সমস্ত পারমাণবিক সরঞ্জাম যাচাইয়ের যে অনুরোধ করা হয়েছে, তা এখন ‘চরম জরুরি’ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে ইরানের কাছে থাকা ‘৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ’ ইউরেনিয়ামের ৪’শ কেজিরও বেশি মজুত নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আইএইএ’র পরিদর্শকরা গত বছরের ১০ জুন শেষবারের মতো এই মজুত দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের ওপর আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল ইসরাইল। সেই ১২ দিনের যুদ্ধে এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রও যোগ দেয় ও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে বোমাবর্ষণ করে।
এরপরই তেহরান আইএইএ’র সঙ্গে তাদের সহযোগিতার পথ সংকুচিত করে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করে দেয় তারা।
ইরানের অভিযোগ, জাতিসংঘের এই সংস্থাটি পক্ষপাতে দুষ্ট ও তারা এই হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে।
আইএইএ’র প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ‘ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে আগে ঘোষিত পারমাণবিক সরঞ্জামগুলোর বিষয়ে তথ্যের যে ধারাবাহিকতা হারিয়ে গেছে, তা অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করা প্রয়োজন।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলসহ পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি— ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিশেষজ্ঞরা মধ্যপ্রাচ্যে একমাত্র ইসরাইলকেই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে গণ্য করেন। তবে তেহরান বরাবরই এ ধরনের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা অস্বীকার করে আসছে।
ইরানের দাবি, কেবল বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ প্রয়োজনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তাদের রয়েছে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানোর ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে। তবে তেহরান ওয়াশিংটনকে তাদের ‘অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক দাবি’ পরিহার করার কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়ায় প্রাথমিক আশাবাদ কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
আইএইএ’র সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির নির্ধারিত সীমা (৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ) থেকে বহুগুণ বেশি।
উল্লেখ্য, পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।