বাসস
  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৩৮

প্রস্তাবিত শ্রম সংস্কার আইন অনুমোদন করলো আর্জেন্টিনার সংসদ

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) :  আর্জেন্টিনার সংসদ গতকাল শুক্রবার দেশটির প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার মিলেইর প্রস্তাবিত শ্রম সংস্কার আইনের অনুমোদন দিয়েছে। 

নতুন আইনটি কাজের ঘণ্টা, ছাঁটাই ও অতিরিক্ত সময় সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করে, নিয়োগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

তথাকথিত প্রস্তাবিত এই ‘শ্রম আধুনিকীকরণ আইনে’ বলা হয়েছে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা কাজ করা যাবে, ক্ষতিপূরণের টাকা কমানো হবে, ধর্মঘটের অধিকার সীমিত হবে ও নিয়োগকর্তাদের কর হ্রাস করা হবে।

আইনটি গতকাল শুক্রবার সিনেটে চূড়ান্ত ভোটের জন্য পাঠানো হয়। আইনটি গত সপ্তাহে নিম্নকক্ষ ডেপুটিদের চেম্বারে অনুমোদন পায়। 

সরকার অসুস্থতার বেতনসহ কিছু বিষয় নিয়ে ছাড় দিয়েছে এই আইনে।

গত দুই সপ্তাহে এই আইনকে শ্রমিক অধিকার হ্রাসের প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ সড়কে প্রতিবাদ করেছে। 

সংসদের বাইরে দুইটি প্রতিবাদে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শেষ হলেও, শুক্রবারের তৃতীয় প্রতিবাদে কেবল সামান্য বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে।

জরিপে দেখা গেছে যে সংস্কারের পক্ষে ৪৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বিপক্ষে ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পড়েছে।

জেনারেল কনফেডারেশন অফ লেবার (সিজিটি) জানিয়েছে যে তারা এখন আইনের বিরুদ্ধে আদালতে যাবে।

গত সপ্তাহে সিজিটি সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। 

এই আইন মিলেইর মুক্তবাজার নীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আর্জেন্টিনার শ্রম আইনগুলো পুরানো, অত্যধিক সীমাবদ্ধ এবং এই আইনগুলো আনুষ্ঠানিক নিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।

তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার ৪৩ শতাংশেরও বেশি শ্রমিকের নিয়মিত চাকরির চুক্তি নেই।

সারজিও এমিলিওজি নামের ৬০ বছর বয়সী এক শিক্ষক বলেন, ‘আইনটি চাকরি বৃদ্ধির জন্য বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে এটি উল্টো। এটি আমাকে সহজে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা সম্ভব করে দিচ্ছে।’

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেইয়ের প্রস্তাবিত শ্রম সংস্কারের ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—এমন দাবির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দল, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং সামাজিক সংগঠনের নেতারা । তাদের মতে এই সংস্কার শ্রম আইনকে দুর্বল করবে এবং শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করবে।

তারা উল্লেখ করেছেন, মিলেইর ক্ষমতায় আসার পর ২১ হাজার কোম্পানি বন্ধ হয়েছে এবং ৩ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে।