বাসস
  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫২

গাজায় বিদেশী সাহায্য সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করলো ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক রায়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে কর্মরত ৩৭টি বিদেশী সাহায্য সংস্থার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

কোর্ট রায়ে বলেছে, ‘কোনো অবস্থান না নিয়ে একটি অস্থায়ী আদেশ জারি করা হলো।’ এটি একাধিক এনজিওর আবেদনের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। 

নিবন্ধন বিধি মানতে ব্যর্থতার কারণে ইসরাইলের সরকার সংস্থাগুলোকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। যার বিরুদ্ধে একাধিক এনজিও হাইকোর্টে আবেদন করলে আদালত এ অস্থায়ী আদেশ জারি করে। 

এই রায়ের ফলে মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় এনজিওগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে। যদিও সাহায্যকারী গোষ্ঠীগুলো কীভাবে এই স্থগিতাদেশ বাস্তবায়ন করা হবে সে সম্পর্কে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ), অক্সফাম, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল এবং কেয়ারসহ সংস্থাগুলোকে ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে অবহিত করা হয়েছিল যে, তাদের ইসরাইলি নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের তালিকা প্রদান করে তা নবায়ন করার জন্য ৬০ দিন সময় রয়েছে।

যদি তারা তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ১ মার্চ থেকে পূর্ব জেরুজালেমসহ গাজা এবং পশ্চিম তীরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

এক বছর ধরে চলা এই লড়াইয়ের পর ইসরাইলে তাদের দাতব্য প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিল হওয়ার পর, এনজিওগুলো তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের তালিকা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানায়।  এনজিওগুলোর সংগঠন আইডা-এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।

আদালত তার রায়ে বলেছে যে, ইউরোপীয় আইনের অধীনে বিদেশী এনজিওগুলোর তাদের কর্মীদের গোপনীয়তার প্রতি দায়িত্বের কারণে একটি ‘প্রকৃত আইনি বিরোধ’ বিদ্যমান।

আইডা-র পরিচালক অ্যাথেনা রেবার্ন এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখনও দেখছি রাষ্ট্র এই স্থগিতাদেশকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবে এবং এটি আমাদের কার্যক্রম বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে কিনা।’ তিনি এটিকে ‘সঠিক পথে একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে লড়াই চালিয়ে যাবো এবং যারা সাহায্যের প্রয়োজন তাদের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেবো।’

আদালতে এনজিওগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী ইয়োটাম বেন-হিলেল আদালতের রায় স্বাগত জানিয়েছেন, কিন্তু এএফপিকে বলেছেন যে ‘আমরা এখনও জানি না এটি কীভাবে কার্যকর হবে’।

তিনি বলেন, ‘আজ হাই কোর্ট অব জাস্টিস গাজা ও পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের কিছুটা শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।’

ইসরাইল ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে এবং গাজা থেকে সমস্ত প্রবেশ এবং প্রস্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে।