বাসস
  ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:০২

২০২৫ সালে সুদানের যুদ্ধে নিহত সাধারণ মানুষের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি: জাতিসংঘ

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে সুদানের যুদ্ধের সময় নিহত সাধারণ মানুষের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, আরও কয়েক হাজার নিহত শনাক্ত হয়নি বা নিখোঁজ রয়েছে।

জেনেভা থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদান সেনাবাহিনী ও র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আর এসএফ) -এর মধ্যে সংঘাত চলছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ নিহত, এক কোটি ১০লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মানবিক সংকটের একটি তৈরি করেছে।

ভলকার তুর্ক জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বলেন, ‘এই যুদ্ধ বর্বর, রক্তক্ষয়ী ও অর্থহীন।’ তিনি এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য উভয় পক্ষকে দায়ী করেছেন। তারা এখন পর্যন্ত কোনো মানবিক যুদ্ধবিরতি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তিনি বিদেশী পৃষ্ঠপোষকদের অর্থায়নের জন্যও দোষারোপ করেন, যাকে তিনি ‘উচ্চ প্রযুক্তির’ সংঘাত বলে অভিহিত করেছেন।

তুর্ক বলেন, ‘২০২৫ সালে, আমাদের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের হত্যাকাণ্ড আগের বছরের তুলনায় আড়াই গুণ বেড়েছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বা শনাক্ত হয়নি।’

সংঘাতের মোট মৃত্যুর সরকারি সংখ্যা এখনও প্রকাশিত হয়নি।

তিনি যৌন সহিংসতা, অপ্রত্যাশিত মৃত্যুদণ্ড ও আত্মমর্যাদা হরণের মতো বর্বরতার জন্য উভয় পক্ষের কঠোর নিন্দা করেন।

এপ্রিল মাসে জমজম বাস্তুচ্যুত শিবির-এ আরএসএফের আক্রমণ ও অক্টোবর মাসে পশ্চিম দারফুরে এল-ফাশার এলাকায় সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটিতে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তুর্ক।

তুর্ক বলেন, ২০২৫ সালে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও দাসত্ব বেড়েছে, পাঁচ শতাধিক ভুক্তভোগী নথিভুক্তি ঘটেছে। সম্প্রদায়গুলোকে আতঙ্কিত করার জন্য সুদানী নারী ও মেয়েদের মৃতদেহকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সুদানের কোর গ্রুপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলেছে, এল-ফাশারে আরএসএফ-নেতৃত্বাধীন সহিংসতা ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের পর্যায়ে’ এবং ‘নরবংশ বিধ্বংসের ছাপ বহন করছে।’

জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও ব্রিটেন জানিয়েছে, সুদানে আরও বর্বরতা রোধ করতে ও সুদানের জনগণকে ভবিষ্যতের ন্যায়ের ভিত্তি তৈরি করতে সহায়তা করার লক্ষ্যে তারা একটি জোট গঠন করবে।

- ‘পাগলামি-’
এল-ফাশারের পতনের পর সংঘর্ষ কোরদোফান সীমান্ত অঞ্চলে আরও গভীরে চলে গেছে। ড্রোন হামলায় একবারে একডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

তুর্ক জানান, ‘জানুয়ারি মাস থেকে দক্ষিণ কোরদোফান ও আশেপাশের এলাকায় ড্রোন হামলায় অন্তত ৬‘শ সাধারণ মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন,’ যার মধ্যে মানবিক সহায়তা বহরের ওপরও আক্রমণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জাতিসংঘের সুদানের স্থায়ী ও মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন জানান, দক্ষিণ কোরদোফানের কাদুগলি ও দিল্লিং শহরে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব ছিল। দীর্ঘদিন আরএসএফের অবরোধ থাকলেও সেনাবাহিনী সম্প্রতি তা তুলে দেয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরবরাহ পৌঁছে দিতে পারিনি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আমাদের কর্মীদের সরিয়ে নিতে হয়েছে।’

গত নভেম্বরে, দারফুরের উত্তরাঞ্চলের রাজধানী এল-ফাশার ও দক্ষিণ কোরদোফানের কাদুগলিতে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়। একই মূল্যায়নে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরদোফানের দিল্লিংও দুর্ভিক্ষের শঙ্কায় রয়েছে।

তুর্ক বলেন, সেনাবাহিনী ও আরএসএফ প্রায়ই কোনো প্রকার সতর্কতা ছাড়াই জনবহুল এলাকায় বিস্ফোরক ব্যবহার চালিয়ে যাচ্ছে, যা মানুষের জীবনের প্রতি সম্পূর্ণ অবহেলা প্রদর্শন।

দীর্ঘ-পরিসরের উন্নত ড্রোনের ব্যবহার বৃদ্ধির উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, এতে সীমানার অনেক দূরে থাকা শান্তিপূর্ণ অঞ্চলেও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

‘সমাজের সামরিকীকরণ বৃদ্ধি’ পেয়েছে, শিশুকে লড়াইয়ে নিয়োগ দেওয়াসহ বিষয়গুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুর্ক ।