শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): যুক্তরাষ্ট্রে এক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যুতে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন শীর্ষস্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতারা। এই ঘটনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ওপর নতুন করে চাপ বেড়েছে।
বাফেলো পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র জানান, গত মঙ্গলবার রাতে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলীয় শহর বাফেলোর একটি রাস্তায় ৫৬ বছর বয়সি নুরুল আমিন শাহ আলমের মরদেহ পাওয়া যায়।
নিউইয়র্ক থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দিন আগে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বর্ডার প্যাট্রোল) সদস্যরা তাকে একটি রেস্তোরাঁর সামনে নামিয়ে দিয়ে যায়।
দৃষ্টিশক্তিহীন এবং ইংরেজি বলতে না পারা শাহ আলমকে সেই স্থান থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মার্কিন সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের শীর্ষ নেতা চাক শুমার অভিযোগ করেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এজেন্টরা শাহ আলমকে তার পরিবারকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি থেকে অনেক দূরে প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ফেলে রেখে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে শুমার এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে লেখেন, ‘তার বেঁচে থাকার কথা ছিল- এমন ঘটনা কখনোই ঘটা উচিত হয়নি।’
বাফেলোর মেয়র শন রায়ান এই মৃত্যুকে ‘গভীর উদ্বেগজনক’ এবং অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘দায়িত্বে অবহেলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘একজন অসহায় মানুষ- যিনি প্রায় অন্ধ এবং ইংরেজি বলতে পারেন না- তাকেও কোনো নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা না করে শীতের রাতে একা ফেলে রাখা হয়েছে।’
লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযানের মুখে এই ঘটনা দেশটিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, অতি-আগ্রাসী মনোভাব, বর্ণবাদ এবং আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের মাধ্যমে এই অভিযান মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বিভাগ জানায়, শাহ আলমকে তার ঠিকানার কাছে একটি ‘উষ্ণ ও নিরাপদ স্থানে’ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
সংস্থাটির দাবি, তার মধ্যে কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন আছে- এমন কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
বাফেলো পুলিশ জানিয়েছে, মুক্তির পর শাহ আলমের মৃত্যুর কারণ ও প্রেক্ষাপট অনুসন্ধানে গোয়েন্দারা কাজ করছেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তার মৃত্যু ‘স্বাস্থ্যগত’ কারণে হয়েছে। শীতের তীব্রতা বা এটি কোনো হত্যাকাণ্ড নয় বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।